আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান রোববার সংসদে বলেছেন, পল্লবীর শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় সরকারের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। অন্যান্য ধর্ষণ মামলার বিচার দ্রুত করতে সরকার কাজ চালিয়ে যাবে।
মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ
আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের রায় সরকারের দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আমরা সব সাক্ষী ও প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। আমরা যে রায় আশা করেছিলাম, যে রায় প্রস্তাব করেছিলাম এবং আদালতের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম, সব সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সেই রায়ই দিয়েছেন।'
দ্রুত তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া
পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ২৪ মে পুলিশ প্রতিবেদন জমা দেয়। একই দিনে চার্জশিট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে বিচার বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কায় সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নেয়। আইনমন্ত্রী জানান, নিম্ন আদালত ১ থেকে ১৫ জুন গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে যাওয়ার কথা ছিল। সরকারের অনুরোধে প্রধান বিচারপতি নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালকে ছুটির আওতা থেকে অব্যাহতি দেন।
আইনজীবী না থাকায় সরকারি ব্যবস্থা
চার্জশিট দাখিলের পর আসামিরা আইনজীবী নিয়োগ না করায় সরকার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ব্যবস্থা করে। আইনমন্ত্রী বলেন, 'আসামিরা আইনজীবী না নেওয়ার সুযোগে বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারত। তাই আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নিয়োগ দিই।'
ভুক্তভোগীর পরিবারের সন্তুষ্টি
আইনমন্ত্রী জানান, রায় শোনার পর ভুক্তভোগীর বাবা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, 'সাংবাদিকরা যখন বলেছিলেন যে ভুক্তভোগীর বাবা ন্যায়বিচার চান না, তখন আমরা বলেছিলাম যে তার আস্থা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমেই এর উত্তর দেওয়া সম্ভব।'
অন্যান্য মামলায় দ্রুত বিচারের প্রতিশ্রুতি
আসাদুজ্জামান বলেন, পল্লবীর শিশু হত্যা দেশের মানুষকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। সরকার অন্যান্য ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতন মামলার বিচার দ্রুত করছে। তিনি বলেন, 'শিশু হত্যা আমাদের জীবনে হিমালয়ের মতো ভারী। যদি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ফাঁসি কার্যকর করতে পারি, তাদের মৃত্যু হবে দেশের জন্য পালকের মতো হালকা। এটাই আমাদের দায়িত্ব ও জনগণের প্রতি অঙ্গীকার।'



