চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তা মনির হোসেনকে আসামি করে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পুলিশ জানায়, ২২ মে এ ঘটনায় মামলা করা হয়। এর মধ্যে ঈদুল আজহার ছুটির কারণে কিছু বিলম্ব হলেও পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যেই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২১ মে বাকলিয়া এলাকার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছরের শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে (৩০) বিকেল চারটার দিকে আটক করে পুলিশ। থানায় নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানান। একপর্যায়ে শত শত মানুষ পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা পিছু হটে অবস্থান নেন।
রাত আটটার দিকে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাত সোয়া ১০টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুলিশ কৌশলে অভিযুক্তকে একটি ভবন থেকে বের করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তবে এরপরও উত্তেজিত লোকজন সড়কে অবস্থান নিয়ে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন।
আইনি প্রক্রিয়া
পুলিশ জানায়, ২২ মে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আসামি করে বাকলিয়া থানায় মামলাটি করেন। পরে বিকেলে আদালতে হাজির করা হলে আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। শিশুটিও আদালতে জবানবন্দি দেয়। দুজনের জবানবন্দিতে ঘটনার বিবরণ একই। গত সোমবার ডিএনএ নমুনা পাঠানো হয়। প্রতিবেদন আসে গত বুধবার। সব তথ্য-প্রমাণসহ আদালতে অভিযোগপত্র জমা করা হয়।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ‘শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় ২২ মে তার বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার আসামি মনিরকে শুক্রবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হলে তিনি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি বন্ধ ছিল। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করেছি। মামলায় ১৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।’



