পাবনায় স্কুলছাত্রী হত্যা: লাশবাহী গাড়ি ঠেলে দিয়েছিলেন স্থানীয়রা, ধরা পড়ল খুনিরা
পাবনায় স্কুলছাত্রী হত্যা: লাশবাহী গাড়ি ঠেলে দিয়েছিলেন স্থানীয়রা

পাবনার পদ্মা নদী থেকে বুধবার (৩ জুন) সকালে হাত-পা বাঁধা ও প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় এক কিশোরীর লাশ উদ্ধারের পর হত্যারহস্য উদঘাটন হয়েছে। ঘটনার জট খুলেছে স্থানীয়দের সহায়তায়। স্কুলছাত্রী রিয়া খাতুনকে (১৫) হত্যার পর তার লাশ প্রাইভেটকারে করে নদীতে ফেলতে যাচ্ছিল খুনিরা। পথে গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হলে স্থানীয়রা তা ঠেলে দেন, যা পরে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেয়।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

নিহত রিয়া খাতুন পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের আজিজুল প্রামাণিকের মেয়ে। সে মাওলানা কাসিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রেমিক নাঈমের সঙ্গে রিয়ার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। গত মঙ্গলবার (২ মে) বেলা ১১টার দিকে রিয়া নাঈমের বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে আর্থিক লেনদেন নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

লাশ সরানোর চেষ্টা

হত্যার পর নাঈম তার বন্ধু ইয়াসিন শেখ ও তুহিন প্রামাণিককে ডেকে আনে। তারা রিয়ার দুই হাত দড়ি দিয়ে বেঁধে, গলায় বাজারের ব্যাগ পেঁচিয়ে মুরগির খাবারের বস্তায় লাশ ভরে। পরে প্রাইভেটকারে করে পদ্মা নদীতে ফেলতে যায়। কিন্তু তীরে পৌঁছানোর আগেই গাড়িটি নষ্ট হয়ে যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের ভূমিকা

গাড়ি নষ্ট হলে চার যুবককে তা ঠেলতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। মানবিক কারণে তারা গাড়িটি বলরামপুর মুজিব বাঁধ পর্যন্ত ঠেলে দেয়। তবে যুবকদের সন্দেহজনক আচরণে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ জাগে। পরে সেই সূত্র ধরেই পুলিশ ঘটনার জট খুলে ফেলে।

গ্রেফতার ও স্বীকারোক্তি

পুলিশ ব্যবহৃত গাড়িসহ মূল হোতা নাঈম ও তার দুই সহযোগী ইয়াসিন শেখ ও তুহিন প্রামাণিককে গ্রেফতার করে। বুধবার সন্ধ্যায় পাবনার পুলিশ সুপার সুফী উল্লাহ প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার সবাই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ