রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসায় নূর জাহান বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনায় তার সন্তানদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন এই নোটিশ পাঠান। তিনি নিজেই নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নোটিশে কী বলা হয়েছে?
নোটিশে বলা হয়, ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার, পারিবারিক দায়িত্ববোধ, সামাজিক নৈতিকতা এবং আইনের শাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংবিধানের ১৫, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও জীবন-নিরাপত্তার যে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, সেই আলোকে প্রবীণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও পরিবারের যৌথ দায়িত্ব বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’-এর কথা উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, সন্তানদের ওপর পিতা-মাতার ভরণপোষণ, দেখভাল, পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সন্তানদের সংখ্যা নিয়ে দ্বিমত
নোটিশে মৃত নূর জাহান বেগমের চার সন্তান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নূর জাহান বেগমের একজন সন্তান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, তাঁরা তিন ভাইবোন। নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
আইনজীবীর প্রশ্ন
আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন নোটিশে জানতে চেয়েছেন, নূর জাহান বেগমের ভরণপোষণ, চিকিৎসা, পরিচর্যা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল; মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ও দায়িত্ব পালনের বিবরণ কী ছিল; দীর্ঘ সময় তাঁর একাকী অবস্থানের বিষয়ে সন্তানেরা অবগত ছিলেন কি না; দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হলে তার সমর্থনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্রও চাওয়া হয়েছে।
পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
নোটিশে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষার স্বার্থে বিষয়টি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং উচ্চ আদালতের নজরে আনার বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আইনজীবীর বক্তব্য
এ বিষয়ে আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশ ও জাতির জন্য এই ঘটনা খুবই কলঙ্কজনক। এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এই ঘটনার যেন সঠিক তদন্ত হয় এবং কারও গাফিলতি থাকলে আমরা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় যাব। আমরা চাই, রাষ্ট্র এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হবে। সবাই বৃদ্ধ মা-বাবার যত্ন নেবে।’



