নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ঈদ-পরবর্তী সময়ে ফেরি চলাচলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা ও যাত্রী ভোগান্তির ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফেরিঘাটে একটি অসাধু সিন্ডিকেটের কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি, অনিয়ম এবং সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের অভিযোগ তুলে এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হান্নান মাসউদ।
ঘটনার সূত্রপাত
রোববার (৩১ মে) রাতে হাতিয়ার নলচিরা ফেরিঘাটে ফেরি ‘মহানন্দা’ ছাড়তে বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, সংসদ সদস্যের জন্য ফেরি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছেড়েছে। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে হান্নান মাসুদ জানান, তিনি ফেরি আটকে রাখার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন বরং ঘাটে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর উদ্দেশ্যেই সেখানে উপস্থিত হন।
সংসদ সদস্যের বিবৃতি
সংসদ সদস্যের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার উদ্দেশে নির্ধারিত সময়ে ফেরিঘাটে পৌঁছান হান্নান মাসউদ, কিন্তু ঘাটে পৌঁছানোর পর তাকেও প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় তিনি দেখতে পান, মোটরসাইকেল, ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন ফেরিতে না তুলে দীর্ঘ সময় ধরে সড়কে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক মহল ও অসাধু সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সংসদ সদস্যকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং ফেরি ব্যবস্থাপনাকে বিতর্কিত করে তোলা। এমপি ঘাটে পৌঁছানোর আগেই ওই চক্রটি বিভিন্ন যানবাহন ফেরিতে উঠতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ করা হয়।
হান্নান মাসউদের বক্তব্য
এ বিষয়ে হান্নান মাসুদ বলেন, বিএনপির কিছু লোক এবং একটি অসাধু চক্র আমার নামে অপপ্রচার চালানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। আমি ঘাটে গিয়ে দেখি, অকারণে যানবাহন আটকে রাখা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। পরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নিই।
তিনি বলেন, সাধারণ যাত্রী হোক কিংবা ভিআইপি—কারও জন্যই ফেরি নিয়মের বাইরে অপেক্ষা করবে না। নির্ধারিত সময়সূচি মেনেই ফেরি চলাচল করতে হবে। যারা ফেরিঘাটকে কেন্দ্র করে কালো সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্র ও পর্যবেক্ষণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ-পরবর্তী সময়ে কর্মস্থলমুখী মানুষের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেরিঘাটে অতিরিক্ত ভিড় ছিল। তবে অনেক যাত্রীর অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ফেরি ছাড়তে বিলম্ব হয়েছে। অন্যদিকে সংসদ সদস্যের সমর্থকরা দাবি করেন, এই বিলম্বের মূল কারণ ছিল প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ড, কোনো ব্যক্তির জন্য ফেরি আটকে রাখা নয়।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, ঈদের পর অতিরিক্ত যাত্রী ও যানবাহনের চাপের কারণে ফেরি ব্যবস্থাপনায় সাময়িক জটিলতা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে যদি কৃত্রিমভাবে যানজট সৃষ্টি কিংবা অনিয়মের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ফেরি সেবা ও সিন্ডিকেটের প্রভাব
উল্লেখ্য, হাতিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য ফেরি সেবা চালু হয়। কিন্তু ফেরি চালুর পর থেকেই একটি চক্র নানা সময়ে এ সেবাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে বলে সংসদ সদস্যের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ অবস্থায় ফেরি ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ, নিয়মতান্ত্রিক ও যাত্রীবান্ধব করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



