মুন্সীগঞ্জে গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর হত্যা, গ্রেফতার ৪ আসামি
মুন্সীগঞ্জে গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর হত্যা, গ্রেফতার ৪

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় গৃহবধূ হালিমা আক্তারকে গণধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি দাবি করেছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় হালিমাকে। গ্রেফতারকৃতরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

গত ২৯ মে গজারিয়া উপজেলার ফুলদী নদীর শাখা নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক তরুণীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের অবস্থা খারাপ থাকায় প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তিনি উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামলদী গ্রামের মহসিন মিয়ার মেয়ে হালিমা আক্তার (২২)।

মামলা ও গ্রেফতার

এ ঘটনায় নিহতের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে নেমে ৩০ মে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনকে গ্রেফতার করে পিবিআই। গ্রেফতাররা হলেন গজারিয়া উপজেলার বড় ভাটেরচর এলাকার আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), রাসেল মিয়া (৪৪) ও আলামিন প্রধান (৫০)।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যার কারণ

পিবিআই জানায়, জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামিরা জানিয়েছেন, হালিমার কাছে আবু কালামের প্রায় ২৫ হাজার টাকা এবং রাসেল মিয়ার ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এছাড়া জামাল হোসেনের সঙ্গে হালিমার ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় প্রকাশ পেলে সামাজিকভাবে বিব্রত হওয়ার আশঙ্কা থেকে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে গজারিয়ার হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি স্থানে বৈঠক করে হালিমাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় অভিযুক্তরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৬ মে সন্ধ্যার পর কৌশলে হালিমাকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে নৌকাযোগে নদী পার করে বড় ভাটেরচর এলাকার একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে তার পরনের টাইটস গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।

মরদেহ গোপন করার চেষ্টা

হত্যার পর মরদেহের হাত-পা বেঁধে ফুলদী নদীর শাখা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে ঘটনাটি গোপন রাখা যায় এবং আলামত নষ্ট হয়।

পিবিআইয়ের বক্তব্য

সংবাদ ব্রিফিংয়ে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রাইম সিন পরিদর্শন এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতার চার আসামিই আদালতে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।