নারায়ণগঞ্জে ছয় বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামি গণপিটুনিতে নিহত
নারায়ণগঞ্জে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামি গণপিটুনিতে নিহত

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গণপিটুনিতে আহত যুবক হিরো (২২) মারা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে ঘটনাটি শুক্রবার বিকালে প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার বিবরণ

এর আগে, ২২ মে (শুক্রবার) রাতে সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দবাজার এলাকায় গণপিটুনির এ ঘটনা ঘটে। নিহত ২১ বছর বয়সী হিরো নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের বাসিন্দা মনির হোসেনের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হবে। ধর্ষণের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রমাণ মেলেছে কি না- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনও প্রমাণ মেলেনি। শিশুটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার তথ্য পেলে পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিশুটির অবস্থা

এর আগে, ২২ মে সন্ধ্যায় ২০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ছয় বছরের শিশুকে একটি ক্ষেতের নির্জন স্থানে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায় অভিযুক্ত দুই যুবক। ঘটনার পর শিশুটি বাড়ি ফিরে গেলে তার মা বিষয়টি বুঝতে পারেন। তবে লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানাননি। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গণপিটুনির ঘটনা

ওই রাতেই ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। আর অভিযুক্ত হিরোকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে গণপিটুনি দেয় ভুক্তভোগীর স্বজন ও স্থানীয় জনতা। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করে পুলিশ। এ ছাড়া পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপর অভিযুক্ত সোহেলকে আটক করে।

মামলা

এ ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় হিরোকে প্রধান আসামি এবং ধর্ষণে সহযোগিতা করার অভিযোগে একই এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে সোহেলকে দুই নম্বর আসামি করা হয়।