নাটোরের সিংড়া থানার এক এসআই গভীর রাতে চুরির মালামাল ও ফ্রিজ ধরে নিজ ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন। অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার নাম মো. নজরুল ইসলাম। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে ডেকে নিয়ে রফাদফা করা হলেও পরে বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং ওই পুলিশ কর্মকর্তা গা-ঢাকা দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সিংড়া পৌরসভার চাঁদপুর মহল্লার বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের মাদকাসক্ত ছোট ছেলে মাসুম আলী তার বড় ভাই মুনছের আলীর বাসা থেকে একটি ফ্রিজসহ কিছু মালামাল চুরি করেন। গভীর রাতে মালামালগুলো ভ্যানগাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টহলরত এসআই নজরুল ইসলাম ভ্যানগাড়িটি আটক করেন। এ সময় মাসুম পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
প্রত্যক্ষদর্শী সাজু ইসলাম ওরফে ভুণ্ডু ও আবু হানিফ জানান, এসআই নজরুল ইসলাম পথচারীদের সহযোগিতায় ফ্রিজটি তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। পরে অভিযুক্ত মাসুম ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় গিয়ে চুরির ঘটনা স্বীকার করেন। তখন ওই পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ১১ হাজার ৫শ টাকায় ফ্রিজটি কিনে নেন। এ সময় ৩শ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ
চুরির বিষয়টি জানাজানি হলে মালামাল ফেরত পেতে থানায় যান মুনছের আলীর পরিবার। মুনছের আলীর মা মর্জিনা বেগম বলেন, ফ্রিজ চুরির পর লোকমুখে জানতে পারি পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম সেটি নিয়েছেন। পরে সিংড়া সার্কেলের কার্যালয়ে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে টাকা দিয়ে ফ্রিজটি ফেরত এনেছি।
অভিযুক্ত এসআইয়ের অবস্থান
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সিংড়া থানার এসআই নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পুলিশের বক্তব্য
সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, সম্ভবত এ ঘটনাটি তার এই থানায় যোগদানের আগে ঘটেছে। তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পর সিংড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



