মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশু ধর্ষণের মামলায় ফাঁসির রায়
মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণের মামলায় ফাঁসির আদেশ

মেহেরপুরে নয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় শাকিল হোসেন (২৩) নামের এক যুবককে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দেশের বিচারিক ইতিহাসে এই প্রথম মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই রায় ঘোষণা করা হলো।

রবিবার (২৪ মে) দুপুর দেড়টার দিকে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। জরিমানার অর্থ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দাল হাসানের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে নেওয়া হয়।

ঘটনার বিবরণ

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনীতে নয় বছর বয়সী এক মেয়েশিশুকে ধর্ষণ করে শাকিল। পরে শিশুটি তার বাবাকে গিয়ে ঘটনাটি জানায়। তিনি বিষয়টি গ্রামে জানালে স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে শাকিলকে আটকে মারধর করেন। খবর পেয়ে গাংনী থানার পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় এবং চিকিৎসার জন্য গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মেহেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনার দিনই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে গাংনী থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিচারপ্রক্রিয়া

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আতাউর রহমান গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন। ওই বছরের ১৩ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল অভিযোগ গঠন করলে বিচারকাজ শুরু হয়। সশরীর ও ভিডিওকলের মাধ্যমে ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘সশরীর ও ভার্চুয়াল মাধ্যমের সমন্বয়ে সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এ রায় দেশের বিচারিক ইতিহাসে ২৯ কার্যদিবসে এই রায় দেওয়া হয়। এটি একটি দৃষ্টান্ত। এতে ন্যায়বিচার পেয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।’

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মারুফ আহমেদ বলেন, ‘আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।’