ঢাকার সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকায় সংবাদ সংগ্রহকালে দুটি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলের সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছেন এক মাদক কারবারি ও তাঁর সহযোগীরা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আহত সাংবাদিকদের পরিচয়
আহত ব্যক্তিরা হলেন বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল দেশ টিভির জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক তাইফুর রহমান, ক্যামেরাপারসন কাইয়ুম, চালক জয়নাল এবং এসএ টিভির সাভার প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন। তাদের মধ্যে সাদ্দাম হোসেনের অবস্থা গুরুতর, তাকে ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউটে রেফার করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
আহত সাংবাদিকদের ভাষ্য, গতকাল শুক্রবার সকালে অফিসের অ্যাসাইনমেন্টে মাদক ব্যবসা ও মাদকের বিস্তার নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকায় যান তাঁরা। স্থানীয় কয়েকজনের বক্তব্যসহ অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ শেষে সেখান থেকে ফেরার সময় মাদক কারবারি শামীমের মাদক কেনাবেচার জন্য পরিচিত গলিতে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিচ্ছিলেন। এ সময় অপরিচিত এক ব্যক্তি তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে চান। গাড়ি থেকে তাইফুর রহমান নামার সঙ্গে সঙ্গে মাদক কারবারি শামীমসহ ৪০ থেকে ৫০ জন দেশি অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। হামলাকারীরা তাঁদের ব্যবহৃত গাড়ির কাচ ভাঙচুর করেন এবং মারধর করেন। ধারালো চাকু দিয়ে তাইফুরের পেটে ও পিঠে এবং সাদ্দামের ডান চোখ লক্ষ্য করে আঘাত করেন।
পুলিশের তৎপরতা
খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে। পরে তাঁদের সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরমান আলী বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িত শামীমসহ অন্যদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত আছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
সাংবাদিকদের বক্তব্য
সাংবাদিক তাইফুর রহমান বলেন, ‘মারধর ও ছুরিকাঘাত করার পাশাপাশি আমাদের সঙ্গে থাকা যাবতীয় জিনিস ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে আমাদের তুলে শামীমের গ্যারেজে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। সেখানেও আমাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে হাসপাতালে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানালে শামীম জানায়, পুলিশ আসছে, তারা এলে মুচলেকা দিয়ে তারপর যেতে হবে। এর কিছু সময় পর প্রথমে পুলিশের একটি টিম, পরে আরও কিছু পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে সেখান থেকে আমাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।’
হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘সম্প্রতি মাদক কারবারি শামীমকে নিয়ে পৃথক দুটি প্রতিবেদন করা। তুহিন ভাই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে মাদকের বিস্তার নিয়ে রিপোর্ট করার কথা জানিয়ে আমাকে সহযোগিতার অনুরোধ করেন। তাঁর অনুরোধে শুক্রবার দেশ টিভির টিমের সঙ্গে আমিও ছিলাম। হামলার এক পর্যায়ে শামীম পিস্তল ঠেকিয়ে আমাকে গুলি করতে উদ্যত হলে আরেক ব্যক্তি তিন দফায় আমাকে ছুরিকাঘাত করে। একটি আঘাত আমার চোখের কোনায় লেগেছে। সম্প্রতি মাদক কারবারি শামীমকে নিয়ে রিপোর্ট করায় আমার ওপর তাদের ক্ষোভ ছিল।’
হাসপাতালের তথ্য
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা সোনিয়া রহমান বলেন, আহত অবস্থায় দুজন রোগী এসেছেন। এর মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও আরেকজনের চোখে গুরুতর জখম আছে। তাঁকে ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউটে রেফার করা হয়েছে। অন্য যে রোগী স্থিতিশীল আছেন, তাঁর স্বজনদের অনুরোধে তাঁকেও অন্যত্র রেফার করা হয়েছে। আহত উভয় ব্যক্তির শরীরেই ছুরিকাঘাতের চিহ্ন আছে।



