রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার কবর জিয়ারত করতে গিয়ে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এই সময় মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহসহ অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কবর জিয়ারতে আবেগঘন পরিবেশ
শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে জুমার নামাজ শেষে রামিসার বাড়ি সিরাজদীখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের শিয়ালদি গ্রামে কবর জিয়ারতে আসেন নিহত রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা এবং মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ। এ সময় কবরের পাশে দাঁড়িয়ে রামিসার বাবাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে নিজেও অঝোরে কেঁদে ফেলেন সংসদ সদস্য। উপস্থিত এলাকাবাসীর অনেকেই এ দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শোকের ছায়া এলাকায়
স্থানীয়রা জানান, নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রামিসার কবর জিয়ারতের সময় সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেকেই নিহত শিশুটির আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। সংসদ সদস্য এ সময় রামিসার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
দ্রুত বিচারের আশ্বাস
শেখ মো. আব্দুল্লাহ বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করা হবে। যেন ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়। রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, একজন মেয়ের বাবা হিসেবে এবং একজন বড় ভাই হিসেবে আমি এখানে (তার বাসায়) এখানে এসেছি। তার ভালোবাসা এবং আমাকে দেওয়া যে কথা, সে কথার ওপর আমি ১০০ ভাগ বিশ্বাসী যে আমার মেয়ের হত্যার বিচার পাবো। সুষ্ঠু এবং দ্রুত বিচার পাবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন অনুসারে আমি হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করি। প্রধানমন্ত্রী আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন, বাংলাদেশের আইন মেনে সর্বোচ্চ শাস্তি যেটা আছে সেটা যাতে নিশ্চিত করা হয়।’
ঘটনার বিবরণ
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানাকে (৩৪) আটক করা হয়েছে।



