দুর্নীতিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে: ভূমিমন্ত্রী
দুর্নীতিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: মন্ত্রী

দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ জনসেবামূলক ও জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে ইতোমধ্যে নানা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

ভূমিসেবা মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত ভূমিসেবা মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সকল ভূমিসেবা বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছি। এই মন্ত্রণালয় জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান এবং এটিকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে আমরা নানা উদ্যোগ নিয়েছি। ভূমিসেবা মেলার মাধ্যমে সারা দেশে ব্যাপক জনসচেতনতা ও ইতিবাচক জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে।’

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

তিনি আরও বলেন, ভূমি অফিসের ভেতরে বা বাইরে থেকে যারা দুর্নীতির চেষ্টা করে কিংবা দালালি ও হয়রানির মাধ্যমে জনগণের ভোগান্তি বাড়ায়, তাদের জন্য সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ‘আমরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে চাই। কেউ যদি সেবার মানসিকতা বাদ দিয়ে শাসকের মনোভাব নিয়ে কাজ করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে,’ বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নতুন বিল আনার পরিকল্পনা

ভূমিসংক্রান্ত মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সরকার দ্রুতই সংসদে একটি নতুন বিল আনবে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘ভূমির সকল সেবা একটি ছাতার নিচে নিয়ে আসতে আমরা কাজ করছি। এতে সাধারণ মানুষ সহজেই প্রয়োজনীয় সেবা পাবে এবং হয়রানি কমবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সার্বভৌমত্ব ও অধিকার রক্ষা

অনুষ্ঠানে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষার বিষয়েও কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশের মানুষ সবসময় দখলদারদের প্রতিহত করেছে নিজেদের জমিজমা ও পরিবার রক্ষার জন্য। বিদেশিদের মধ্যে আমাদের কোনো প্রভু নেই, সকলে আমাদের বন্ধু। দেশের জনগণের জন্য যেটা ভালো হয়, সরকার সেই ব্যবস্থাই নেবে।’

সিনিয়র সচিবের বক্তব্য

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেন, ‘ভূমির জটিল সমস্যাগুলো একদিনে সমাধান সম্ভব নয়। তবে আমরা একটি টেকসই, আধুনিক ও জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কাজ করছি।’ তিনি জানান, ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ আধুনিক করতে অটোমেশন প্রকল্প দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি বাস্তবায়নের ফলে ভূমি সংক্রান্ত সেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত হবে। একই সঙ্গে দেশের ৬১টি জেলায় দ্রুত নাগরিক সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভূমি ভবনের নাগরিক সেবা কেন্দ্রের আদলে পরিচালিত হবে।

পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ

সমাপনী অনুষ্ঠানে ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ভূমিসেবা মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টলগুলোর মধ্য থেকে সেরা তিনটি স্টলকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া অন্যান্য অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও স্টল প্রতিনিধিদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।