চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের বর্জনের মধ্যদিয়েই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় আইনজীবী সমিতি ভবনের অডিটোরিয়ামে ভোট গ্রহণ শুরু হয় এবং বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে।
আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের বিক্ষোভ
আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা দিনভর আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে 'ভোট চোর ভোট চোর' স্লোগান দিয়ে নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এতে আদালত প্রাঙ্গণে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে।
সাংবাদিকদের হয়রানি
ভোট গ্রহণের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের কয়েকজন চ্যানেল ওয়ানের চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান শাহনেওয়াজ রিটন ও ক্যামেরাপারসন অমিত দাশকে নাজেহাল করেন।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
আওয়ামীপন্থি নেতার বক্তব্য
আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের নেতা ও সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ জানান, এটি একটি এক তরফা নির্বাচন। এখানে জয় কে হবেন তা আগে থেকে নির্ধারিত। সাধারণ আইনজীবীরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন না। অল্প কয়েকজন নিজেদের অনুগত ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করে একতরফাভাবে কমিটি ঘোষণা করেছে। নির্বাচনে অংশ নিতে আমাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহেও বাধা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছি আমরা। সাধারণ আইনজীবীরা নির্বাচন বর্জন করেছে।
প্রতিবাদ সমাবেশ
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় সোনালী ব্যাংক চত্বরে ভোট গ্রহণের প্রতিবাদে সমাবেশ করে ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের সমর্থকরা।
জামায়াতপন্থি নেতার বক্তব্য
ভোট বর্জনের বিষয়ে জামায়াতপন্থি চট্টগ্রাম ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুল আলম বলেন, আমরা ভোট বর্জন করেছি। আমাদের সাধারণ ভোটাররাও ভোট দিচ্ছে না। আমরা এখন এরকমভাবে ভোট গ্রহণের প্রতিবাদে সমাবেশ শুরু করেছি।
আদালতে আবেদন নামঞ্জুর
নির্বাচন স্থগিত চেয়ে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীদের করা আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেন।
পদত্যাগ ও বর্জন
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বিদায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন জামায়াত ইসলামী সমর্থিত সাত আইনজীবী। ভোট বর্জনেরও ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবীদের সংগঠন 'ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের' ১২ প্রার্থী।



