জামায়াতের শিশির মনির: বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্তি ‘কালো দিন’
শিশির মনির: বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্তি ‘কালো দিন’

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও আইনজীবী শিশির মনির বলেছেন, এই দিনটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য ‘কালো দিন’। তিনি বলেন, ‘দিস ইজ এ ব্ল্যাক ডে ফর ইনডিপেনডেন্স অব জুডিশিয়ারি।’

বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় চপেটাঘাত

শিশির মনির অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্ত করার মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর চপেটাঘাত করা হয়েছে। এতে জনগণের আস্থার জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

স্বাধীনতার পর থেকে বিচার বিভাগের অবস্থা

শিশির মনির উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাকশাল ও সামরিক শাসনের কারণে বিচার বিভাগ স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এক রায়ে ৯০ দিনের মধ্যে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করে। পরে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সচিবালয়ের উদ্বোধনও হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অধ্যাদেশ বাতিল ও বর্তমান পরিস্থিতি

তবে ৯ এপ্রিল সরকার ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে। এর বিরুদ্ধে রিট পিটিশন দায়ের করা হয় এবং আদালত অবমাননার নোটিশ দেওয়া হয়। শিশির মনির বলেন, এই পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবসহ ১৫ জনকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের ‘কফিনে শেষ পেরেক’ ঠুকে দেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জুলাই সনদ ও বিএনপির অবস্থান

শিশির মনির আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদে একটি দল ছাড়া বিএনপিসহ সবাই স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একমত হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘বিচারকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে একটি সভ্য সমাজ গড়ে উঠতে পারে না। সরকার যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেয় যা সংবিধানসম্মত নয়, আইনসম্মত নয়, বিচারকেরা সেটি দেখবেন, বিচার করবেন। পক্ষ-বিপক্ষে যা রায় দেবে, আমি অসন্তুষ্ট হলে আপিল করব। কিন্তু বিচারকদের আমি বদলি করে দিব, তাদের পদোন্নতি দেব না, তাদেরকে সুন্দরবন, বান্দরবন পাঠিয়ে দিব—এটি কোনো স্বাধীন বিচার বিভাগের ক্যারেক্টার হতে পারে না।’

নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি ও পদোন্নতি

শিশির মনির মন্তব্য করেন, নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, ছুটি, পদোন্নতির দায়িত্ব আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে না দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে থাকা উচিত। তাঁর ভাষ্য, ‘রাত তিনটার সময়, বিকেলে বা সন্ধ্যায় আদালত বসিয়ে যাকে ইচ্ছা তাকে সাজা দেওয়ার অভিপ্রায় থাকলে তবেই আইন মন্ত্রণালয় এটা নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে।’

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে জুলাই সনদের ওপর একটার পর একটা আঘাত করা হচ্ছে। সবকিছুর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে রাষ্ট্রের মধ্যে একটা কর্তৃত্ববাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। তাঁর দাবি, বিচার বিভাগকে নির্বাহী নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও সংকুচিত হবে।

সরকারের পথ অনুসরণের অভিযোগ

হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, ‘বিগত সরকার যে পথ দেখিয়ে গেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে এই সরকার এই পথগুলো অনুসরণ করছে। তো জনগণ একইভাবে বিগত সরকারকে যে পথ দেখিয়েছে, ওনাদেরকেও সেই পথে যেতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য উপস্থিতি

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান প্রমুখ।