আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন মো. সাইফুর রহমান। তিনি জবানবন্দিতে বলেন, ওই সময় তিনি বিজিবি ও পুলিশ সদস্যদের গুলি করতে দেখেছেন।
ঘটনার বিবরণ
সাক্ষী সাইফুর রহমান জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুম্মার নামাজের পর তিনি গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও আন্দোলনের শব্দ শুনতে পান। তিনি বাসা থেকে বের হয়ে বনশ্রী এফ-জি অ্যাভিনিউ রোড দিয়ে মূল সড়কের দিকে যান। এক পর্যায়ে এফ ব্লকের একটি নির্মাণাধীন বাড়ির পিলারের পেছনে আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকে বিজিবির সদস্যদের পশ্চিম দিক থেকে গুলি করতে দেখেন। তিনি বলেন, তিন থেকে চার মিনিট ধরে গুলি চলে।
গুলিবিদ্ধদের সন্ধান
বিজিবির সদস্যরা চলে যাওয়ার পর পিলারের পেছন থেকে বের হয়ে আসেন এবং তিন-চারজন গুলিবিদ্ধ আহত লোক দেখতে পান। তিনি তখন তাদের পরিচিত কিনা তা বুঝতে পারেননি। পরে রাতে জানতে পারেন, গুলিবিদ্ধদের মধ্যে আশিক ও তামিম নামে দুজন ছিলেন। আশিকের মায়ের দরজির দোকান তাঁর বাসার উল্টো দিকে থাকায় তিনি আশিককে চিনতেন। রাত ১০টার দিকে তিনি জানতে পারেন, আশিকের লাশ একটি হাসপাতালে পাওয়া গেছে।
নিহতদের তালিকা
সাইফুর রহমান জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, ওই দিন আশিকসহ রাসেল, তামিম, আসিফ, মারুফ, মোসলেউদ্দিন প্রমুখ মারা যান। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, বিজিবি কর্মকর্তা মো. রাফাত-বিন-আলম মুন, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানের বিচার চান।
আসামিদের বর্তমান অবস্থা
মামলার আসামি রেদোয়ানুল ও রাফাত বর্তমানে সাবজেলে আছেন এবং আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অপর আসামি রাশেদুল ও মশিউর পলাতক রয়েছেন।



