রংপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতি ও সন্তানের পিতৃপরিচয় দাবি করায় এক তরুণী এবং তার গর্ভের সন্তানকে হত্যার দায়ে মাসুম মিয়া (৪৫) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণা
রোববার (১৭ মে) রংপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তবে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ঢাকার আশুলিয়ায় হামিম গার্মেন্টস নামের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় শান্তনা খাতুন ও মাসুম মিয়ার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্রে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তাদের শারীরিক সম্পর্কের ফলে শান্তনা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
এরপর ওই তরুণী মাসুম মিয়ার কাছে সন্তানের পিতৃপরিচয় ও বিয়ের দাবি জানান। তবে মাসুম বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন এবং গোপনে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার নিজ বাড়িতে চলে আসেন।
পরে ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই শান্তনা মাসুমের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দেন এবং বিয়ে না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। তখন মাসুম তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শান্ত করেন।
ওই দিন দুপুরে শান্তনাকে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে একটি আখখেতে নিয়ে যান তিনি। সেখানে শান্তনা ও তার গর্ভের সন্তানকে হত্যা করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মামলা ও তদন্ত
ঘটনার পর পীরগঞ্জ থানার এসআই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তদন্তকারী কর্মকর্তা মাসুম মিয়াকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন।
আইনজীবীদের বক্তব্য
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আফতাব উদ্দিন বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। আদালতের এ রায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সুলতান আহমেদ শাহীন বলেন, আমরা মনে করি, আসামি ন্যায়বিচার পাননি। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানান তিনি।



