জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদারে ১৪ দফা সিদ্ধান্ত
জাবিতে নিরাপত্তা জোরদারে ১৪ দফা সিদ্ধান্ত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পর ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারে ১৪ দফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম এসব সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন।

১৪ দফা সিদ্ধান্তের বিস্তারিত

সংবাদ সম্মেলনে প্রক্টর জানান, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে জরুরি প্রশাসনিক সভায় ১৪টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো একটি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন। নিরাপত্তাঘাটতির অভিযোগ পেলেই এই দল দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য ভাতাও দেওয়া হবে।

দ্রুত নিরাপত্তাজনিত অভিযোগ জানানোর জন্য একটি হটলাইন নম্বর চালু করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ

ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে নতুন নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে বহিরাগতদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে লগবুকে নাম-ঠিকানা ও প্রবেশের উদ্দেশ্য লিখে ঢুকতে হবে। ক্যাম্পাস-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ পাসের ব্যবস্থা করা হবে। নির্মাণশ্রমিক, দোকানের কর্মচারী ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নির্মাণশ্রমিক ও কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দোকানকর্মীদের তথ্য ও জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়ে ডেটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সব ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিরাপত্তা জোরদারে অন্যান্য পদক্ষেপ

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গেটে নিরাপত্তা প্রহরীর সংখ্যা বাড়ানো হবে। কেন্দ্রীয় মসজিদ ফটক, প্রান্তিক ফটক ও গেরুয়া ফটকে অতিরিক্ত প্রহরী মোতায়েন করা হবে। এক মাসের মধ্যে নতুন পুরুষ ও নারী নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। এ ছাড়া আরও ১০০ জন নতুন আনসার সদস্য মোতায়েনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আবেদন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ও প্রবেশপথের ত্রুটি দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি অননুমোদিত প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। আলবেরুনী হলের টিনশেড এক্সটেনশন ভবন অবিলম্বে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলা হবে।

একই সঙ্গে বুলিং, সাইবার বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধ নীতিমালা-২০২৩’ অনুযায়ী একটি স্থায়ী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

এর আগে ১২ মে রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হল-সংলগ্ন রাস্তা থেকে এক ছাত্রীকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে এক ব্যক্তি। পরদিন দুপুরে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা একজনকে আসামি করে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিন রাতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন এবং প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি জানান। তাঁরা আসামিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আল্টিমেটাম দেন। কিন্তু আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় আবার আন্দোলনে নামেন এবং প্রক্টরিয়াল টিমকে পদত্যাগের দাবি জানান। আজ শুক্রবার রাত ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হবে।