বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার এক মাসের মাথায় নেতৃত্বের ভেতরকার অস্বস্তি প্রকাশ্যে এসেছে। সারা দেশে সাংগঠনিক সপ্তাহ পালন শেষে গতকাল রোববার নয়াপল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি পর্যালোচনা সভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যদিও সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এমন কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কথা স্বীকার করছেন না।
বিতর্কের সূত্রপাত ফিরোজ আবদুল্লাহকে ঘিরে
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ফিরোজ আবদুল্লাহকে ঘিরেই সভায় বিতর্কের সূত্রপাত। তবে ঠিক কী কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়, সে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেছে। একটি সূত্রের ভাষ্য, ফিরোজ আবদুল্লাহকে যুবদলের ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক টিমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। রোববারের সভায় তিনি সংগঠনের ঢাকা বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে অযাচিতভাবে মতামত প্রকাশ করলে বিতর্ক শুরু হয়।
অন্য একটি সূত্র জানায়, ফিরোজ আবদুল্লাহর মন্তব্যের পর কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম (নয়ন) তাঁকে সতর্ক করে বলেন, ‘তুমি তো সভাপতির স্বাক্ষরে সহসভাপতি হয়েছ, ঠিকঠাকমতো চলবে।’ নুরুল ইসলামের এমন মন্তব্যে বিব্রত হয়ে সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান ফিরোজ। পরে যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম (মুন্না) তিনজন নেতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁরা হলেন যুবদলের সহসভাপতি কামরুজ্জামান, শামসুজ্জোহা ও মনিরুল ইসলাম। বিগত সময়ে সংগঠনে তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, তা নিয়ে সভায় প্রশ্ন তোলেন যুবদলের সভাপতি। এই তিনজনকে যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ মনে করা হয়। এতে সভার পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সাংগঠনিক সফর নিয়েও ক্ষোভ
সাংগঠনিক সফর নিয়েও সভায় ক্ষোভের প্রকাশ ঘটে বলে জানা গেছে। যুবদলের তিন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ফেরদৌস, মাহমুদুস সালেহীন ও জিয়াউর রহমান সম্প্রতি কক্সবাজারে সাংগঠনিক সফরে যান। রোববারের সভায় মাহমুদুস সালেহীন ও জিয়াউর রহমান অভিযোগ করেন, সেখানে তাঁদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি। এ সময় কয়েকজন নেতা প্রশ্ন তোলেন, কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাঁদের উল্লেখ করার মতো রাজনৈতিক অবস্থান বা পরিচয় নেই। এই সংখ্যা ৩০–৩৫ জনের মতো। তাঁদের বড় একটি অংশ সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় পদ পেয়েছেন বলেও সভায় অভিযোগ ওঠে। নেতাদের মতে, এ কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
গত ৪ জুন ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটি ঘোষণার এক মাসের মাথায়, ৫ জুলাই (রোববার) অনুষ্ঠিত জরুরি সভাকে ঘিরে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নেতৃত্বের মধ্যে প্রকাশ্য মতভেদের অভিযোগ সামনে এল।
নেতাদের বক্তব্য
যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটি বৈঠকে সাংগঠনিক বিষয়ে মতানৈক্য হতেই পারে; কিন্তু কেউই শালীনতার বাইরে যাননি। ন্যূনতম লিমিট ক্রস করেননি কেউ।’
রোববারের সভার বিষয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা হয়েছে সভায়। অনেকে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। একটি সংগঠনের সভায় এ ধরনের কথাবার্তা হওয়া খুবই স্বাভাবিক; কিন্তু কিছু মিডিয়া যুবদল সম্পর্কে সিন্ডিকেট নিউজ করেছে। আমি অবাক হয়েছি, আমি বা সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কোনো কথাই তারা বলল না। অথচ তাদের কাছে কোনো রেকর্ড নেই, ফুটেজ নেই।’
এদিকে আজ সোমবার বিকেল থেকে নয়াপল্টন কার্যালয়ে যুবদলের মুলতবি সভা আবার হয়। সেই সভা থেকে ভিডিও কলে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম। তিনি নিজ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের দেখিয়ে বলেন, তাঁরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সভা করছেন। তাঁদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।
সাংগঠনিক সপ্তাহের মূল্যায়ন
২৩ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত যুবদলের সাংগঠনিক সপ্তাহ পালন করা হয়। এ সময়ে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নেতৃত্বে ১০টি টিম দেশের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগ সফর করে কর্মসূচি পালন করে। সেই কর্মসূচির মূল্যায়ন করতেই রোববার জরুরি পর্যালোচনা সভায় বসেছিলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।



