ভোলা সদর উপজেলায় মাদ্রাসা ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে ১৩ বছরের এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কিশোরীকে চিকিৎসার জন্য ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে গোপাল দেবনাথ (৬৫) নামে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে উপজেলার উত্তর দিঘলদী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই একই এলাকার বাসিন্দা। এর আগে বুধবার (১৩ মে) দুপুরে ওই এলাকাতেই এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ, মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গোপাল দেবনাথ দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে একাই বসবাস করে আসছিলেন। গত বুধবার দুপুর ১২টার দিকে মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার পর তার দুই সহপাঠীকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে গোপাল দেবনাথের বাড়ির সামনের জামরুল গাছের নিচে ফল কুড়ানোর সময় গোপাল কৌশলে তাদের জানায় যে, তার ঘরের ভিতরে জামরুল গাছ থেকে পেড়ে রেখেছেন।
আরও জানা যায়, জামরুলের লোভ দেখিয়ে গোপাল ভুক্তভোগীসহ তার দুই সহপাঠীকে তার বসতঘরের মধ্যে ডেকে নিয়ে যায় এবং তিনি ঘরের দরজা আটকানোর চেষ্টা করিলে ভুক্তভোগীর দুই সহপাঠী দৌড়ে পালিয়ে গেলে ভুক্তভোগীকে ধরে ফেলে। ভুক্তভোগী ডাকচিৎকার দিলে তার মুখের মধ্যে কাগজ ঢুকিয়ে গোপাল তাকে বসতঘরের মধ্যে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
চিকিৎসা ও আইনি ব্যবস্থা
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী কিশোরী বাড়িতে ফিরে পরিবার ও তার দুই সহপাঠীকে ঘটনাটি বিস্তারিত জানালে তাকে চিকিৎসার জন্য ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে গোপাল দেবনাথের বিরুদ্ধে ভোলা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জোনায়েদ হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত। তার গোপনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ভুক্তভোগীর নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে অভিযান চালিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা আসামিকে গ্রেফতার করেছি। আদালতে সোপর্দ করার পর আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।
এদিকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন ভোলার পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার। এছাড়া ভুক্তভোগীর যথাযথ চিকিৎসাসহ ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন তিনি।



