রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানায় এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) নগরীর ধরমপুর এলাকায় ঋতু খাতুন রিয়া (২২) নামের ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্বামী মিজানুর রহমান মিজানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহতের মা শিলা।
দাম্পত্য কলহ ও নির্যাতনের অভিযোগ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে মতিহার থানার ডাঁশমারী মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা রিয়ার সঙ্গে ধরমপুর সোরাফানের মোড় এলাকার মিজানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথমদিকে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও পরে স্বামীর পরকীয়া ও জুয়ায় আসক্তিকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, বিভিন্ন সময় রিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। যৌতুকের টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ এবং বাবার বাড়ির জায়গাজমি বিক্রি করে টাকা আনার জন্যও তাকে হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণ
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১২ মে রাতে রিয়া তার মাকে ফোন করেছিলেন। তবে ঘুমিয়ে থাকায় ফোনটি রিসিভ করেন তার মা। পরে রাতেই বিবাদীপক্ষের লোকজন এসে রিয়ার মৃত্যুর খবর দেয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রিয়ার লাশ দেখতে পান। এ সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তারা।
মতিহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার (১৩ মে) বাদ আসর স্থানীয় কবরস্থানে রিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, ১২ মে রাত থেকে ১৩ মে ভোরের মধ্যে কোনো এক সময় মিজান ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে যৌতুকের টাকার জন্য রিয়াকে মারধর করে হত্যা করেছে।
পুলিশের বক্তব্য
মতিহার থানার ওসি গোলাম কবির জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দুইজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিহত রিয়ার গাল, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে।



