বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ব্যঙ্গ করে তৈরি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহীর বাগমারার এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার কনটেন্ট ক্রিয়েটর
ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নাম আবদুল কাদের (৩১)। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি সজীব নামে পরিচিত। তাঁর বাবার নাম কামরুল ইসলাম। বুধবার সকালে ‘ডিয়া ব্লগ’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত শুক্রবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসরে রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও নওগাঁ জেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মির্জা ফখরুল। তিনি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এই উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে একদল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করেন। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন ‘ছতর জুটি’খ্যাত শিমুল।
ভিডিওতে দেখা যায়, শিমুলের নেতৃত্বে কয়েকজন টিকটকার ব্যক্তিগত গাড়িতে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসরে যাওয়ার সময় মাঝপথে থেমে ভিডিও ধারণ করেন। সেখানে মন্ত্রীকে ট্রল করা হয়। ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ছাত্রদল ও যুবদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিএনপির নেতারাও ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দেন। পরে ভিডিওটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও অন্যরা সেটি সংরক্ষণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন এবং বিচারের দাবি জানান।
ক্ষমা প্রার্থনা
ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে নিজের কান ধরে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, তিনি ফানি ভিডিও তৈরি করেন। সে কারণে রবীন্দ্র মেলার উদ্বোধন নিয়েও ফানি ভিডিও করেছিলেন।
মারধর ও পুলিশে সোপর্দ
গতকাল রাতে যুবদল, তাঁতী দল ও বিএনপির নেতারা আবদুল কাদেরকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের দাবি, একজন সম্মানিত ব্যক্তি ও মন্ত্রীকে যেভাবে হেয় করে কথা বলা হয়েছে, তা মানহানিকর।
পুলিশের বক্তব্য
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান আজ বৃহস্পতিবার সকালে বলেন, থানায় সোপর্দ করা কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



