পঞ্চদশ সংশোধনী আপিল শুনানি মুলতবি, মঙ্গলবার পুনরায় শুনানি
পঞ্চদশ সংশোধনী আপিল শুনানি মুলতবি মঙ্গলবার পুনরায়

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীকে অবৈধ করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি আগামীকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ। সোমবার (৬ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে এ শুনানি হয়।

শুনানিতে অংশগ্রহণ ও আইনজীবীদের বক্তব্য

এদিন শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া ও শিশির মনির। শুনানি শেষে আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, এটি দেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলা, যার সঙ্গে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা জড়িত। তিনি বলেন, “পঞ্চদশ সংশোধনী শুধুমাত্র একটি সংশোধনী ছিল না, এটি সংবিধানকে পুনর্লিখন করার মতো একটি বিষয় ছিল, যার মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। তাই আদালত কর্তৃক এ সংশোধনীটি বাতিল করা প্রয়োজন ছিল, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের জনবিরোধী কোনো সংবিধান সংশোধনী আর না হয়।”

শুনানি শেষের সময়সীমা ও আশা

আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া আশা প্রকাশ করে বলেন, জুলাইয়ের মধ্যেই শুনানি শেষ হবে এবং আপিল বিভাগ থেকে চূড়ান্ত রায় পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার শুনানি শেষ করব। তবে সরকারসহ আরও অনেক পক্ষ রয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর একটি পৃথক আপিল আছে এবং একজন আইনজীবীর করা আরেকটি পৃথক আপিল আছে। এ তিনটি আপিল একসঙ্গে শুনানি হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান বেঞ্চের একজন বিচারপতি জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে অবসরে যাবেন, তাই তার মধ্যেই শুনানি শেষ করে রায় দেওয়া হবে বলে আশা করা যায়। তা না হলে আংশিক শুনানি হয়ে রায় হবে না, যা আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আপিলের পটভূমি

এর আগে, গত ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন আপিল বিভাগ। এরপর আপিল শুনানি শুরু হয়। পৃথক দুটি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ অসাংবিধানিক ও বাতিল করে। এ রায়ের বিরুদ্ধে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি একটি আপিল করেন। এছাড়া নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষেও আপিল করা হয়।

পঞ্চদশ সংশোধনীর ইতিহাস

আওয়ামী লীগ সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী করেছিল। ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ ওই সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন ও আইনের কয়েকটি ধারার বৈধতা নিয়ে গত বছর হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি একটি এবং নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন আরেকটি রিট আবেদন করেন। শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেয়।