সংসদে মঙ্গলবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, রাজধানীতে ভূমিকম্প ও অন্যান্য নগর দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে সরকার ৪৪৫টি ভূমিকম্প আশ্রয়কেন্দ্র চিহ্নিত করেছে। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সলিমুজ্জামান মোল্লার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চিহ্নিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
দুই সিটি কর্পোরেশনে আশ্রয়কেন্দ্র বণ্টন
মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চিহ্নিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় ২৫৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় ১৮৯টি অবস্থিত। মোট ৪৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্রের তালিকা ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবক ডাটাবেস তৈরির উদ্যোগ
মন্ত্রী আরও জানান, বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় ঢাকা শহর ও এর আশপাশের এলাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক সংগ্রহ ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে একটি ডাটাবেস তৈরির কাজ চলছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার অধীনে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্য সংগ্রহ করে এই ডাটাবেস তৈরি করা হবে, যা জরুরি প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা জোরদার করবে।
ভূমিকম্প ও সুনামি পর্যবেক্ষণ জোরদার
আবহাওয়া অধিদপ্তর, ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে ভূমিকম্প ও সুনামি সম্পর্কিত তথ্য পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত প্রচারের ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্প ও সুনামিপ্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় সরকার দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাসে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিল্ডিং কোড মেনে চলার তাগিদ
দুলু বলেন, অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড মেনে চলার ওপর জোর দিয়ে দুর্যোগ সহনশীলতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো দুর্যোগ প্রস্তুতি উন্নত করতে, ঝুঁকি কমাতে এবং সম্ভাব্য ভূমিকম্প থেকে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় বৃহত্তর কৌশলের অংশ।



