ব্রডব্যান্ড মেলার উদ্বোধন: ডিজিটাল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি
ব্রডব্যান্ড মেলার উদ্বোধন: ডিজিটাল বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত

ব্রডব্যান্ড মেলার উদ্বোধন: ডিজিটাল বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়ের সূচনা

ব্রডব্যান্ড খাতের উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরতে আজ সোমবার থেকে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে ব্রডব্যান্ড মেলা। ব্রডব্যান্ড প্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ মেলায় তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের নানা দিক তুলে ধরা হচ্ছে। মেলার উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান এ আসাদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আবদুন নাসের খান এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী।

মন্ত্রীর আহ্বান: ডিজিটাল খাতে উদ্দীপক কর কাঠামো প্রয়োজন

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) আয়োজিত তিন দিনের এ মেলা উদ্বোধন করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ডিজিটাল খাতে যে উদ্দীপক কর কাঠামো থাকা দরকার, তা বর্তমানে অনুপস্থিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য এ ধরনের কর কাঠামো গঠন অত্যন্ত জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান এ আসাদ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সরকার আগামী ৫ বছরে কানেক্টিভিটি, ওয়ান সিটিজেন ওয়ান ডিজিটাল আইডেন্টিটি ও ডিজিটাল ওয়ালেট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এনাবল বাংলাদেশ—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে।

আইএসপিএবির প্রতিশ্রুতি: ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য

আইএসপিএবির সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আমরা কোনো সরকারি সাহায্য ছাড়াই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, সরকারের সহযোগিতা পেলে তারা আগামী ৫ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন। এছাড়া তিনি সারা দেশে এক দেশ এক রেট বাস্তবায়নের জন্য ট্রান্সমিশন রেটও সারা দেশে এক করার আহ্বান জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মেলার প্রদর্শনী: প্রযুক্তির নানা দিকের সমাহার

মেলায় ১০টি প্যাভিলিয়ন, ৩৫টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ২০টি স্টলে তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের সেবা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক পণ্য প্রদর্শন করছে। এ ছাড়া মেলায় থাকা এক্সপেরিয়েন্স জোন–এ রোবটিকস ও ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি)–ভিত্তিক প্রকল্প প্রদর্শন করছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এক্সপেরিয়েন্স জোনে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের তৈরি স্কর্পিয়ন প্রকল্প। এটি পানির নিচে কোনো জাহাজের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করতে পারে ডুবোযানটি।

মেলার সময়সূচি ও গুরুত্ব

১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এ মেলা প্রথম দুই দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং শেষ দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ব্রডব্যান্ড মেলা বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতের অগ্রগতি ও সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।