গ্রামীণফোনের ২০২৫ আর্থিক প্রতিবেদন: নিট মুনাফা ২৯৬০ কোটি টাকা, ২১৫% লভ্যাংশ ঘোষণা
গ্রামীণফোনের ২০২৫ মুনাফা ২৯৬০ কোটি, ২১৫% লভ্যাংশ

গ্রামীণফোনের ২০২৫ আর্থিক সাফল্য: নিট মুনাফা ২৯৬০ কোটি টাকা, ২১৫ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ অপারেটর গ্রামীণফোন লিমিটেড ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা কোম্পানির আর্থিক স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা, যা ২৯.৬ বিলিয়ন টাকার সমতুল্য। এই ফলাফল টেলিকম খাতে গ্রামীণফোনের শক্তিশালী অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

বার্ষিক সাধারণ সভায় লভ্যাংশ অনুমোদন

সোমবার, ২০ এপ্রিল তারিখে অনুষ্ঠিত কোম্পানির ২৯তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এই আর্থিক প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এজিএম আয়োজন করা হয়, যেখানে শেয়ারহোল্ডাররা অনলাইনে অংশগ্রহণ করে তাদের মতামত প্রদান করেন। সভায় ২০২৫ অর্থবছরের জন্য মোট ২১৫ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ অন্তর্ভুক্ত। প্রতি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে শেয়ারহোল্ডাররা পাবেন ২১ টাকা ৫০ পয়সা নগদ লভ্যাংশ, যা কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফার প্রায় ৯৮.২ শতাংশের সমান।

নেতৃত্বের বক্তব্য ও উপস্থিতি

এজিএমে কোম্পানির চেয়ারম্যান জন ওমুন্ড রেভহাগ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা অটো মাগনে রিসব্যাক এবং কোম্পানি সচিব এস এম ইমদাদুল হকসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। চেয়ারম্যান জন ওমুন্ড রেভহাগ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ২০২৫ সাল ছিল গ্রামীণফোনের জন্য স্থিতিশীল অগ্রগতির একটি বছর। বৈশ্বিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও কোম্পানি গ্রাহকসেবা উন্নয়ন, নেটওয়ার্কের মানোন্নয়ন এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে গেছে, যা আর্থিক সাফল্যের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আয় ও গ্রাহকসংখ্যার বিশদ বিবরণ

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান জানান, ২০২৫ সালে গ্রামীণফোনের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। বছরের শেষে কোম্পানির মোট গ্রাহকসংখ্যা ছিল ৮ কোটি ৩৯ লাখ, যার মধ্যে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছেন। এই সংখ্যা ডিজিটাল রূপান্তরের দিকে কোম্পানির অগ্রযাত্রাকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।

ডিজিটাল রূপান্তর ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি

ইয়াসির আজমান আরও উল্লেখ করেন যে, গ্রামীণফোন ডিজিটাল ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করার পাশাপাশি ফাইভজি সেবা সম্প্রসারণে মনোনিবেশ করেছে। মাইজিপি অ্যাপের মাধ্যমে ২ কোটি ২৫ লাখের বেশি গ্রাহককে সেবা প্রদান করা হচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাজনক ডিজিটাল সমাধান নিশ্চিত করছে। একই সঙ্গে, নেটওয়ার্ক পরিচালনা, গ্রাহকসেবা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে কোম্পানিটি একটি এআই-নির্ভর টেলিকম প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পথে দ্রুত এগোচ্ছে। এই প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ভবিষ্যতে সেবার মান আরও উন্নত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গ্রামীণফোনের এই আর্থিক প্রতিবেদন এবং লভ্যাংশ ঘোষণা শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ইতিবাচক সংবাদ বয়ে এনেছে, পাশাপাশি টেলিকম খাতে কোম্পানির নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা তুলে ধরেছে। ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণফোন দেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানানো হয়েছে।