জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরোধিতা
জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাব

জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে তীব্র বিতর্ক

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জ্বালানি সংকট ইস্যুতে মুলতবি প্রস্তাব দিয়েছেন, কিন্তু তা গৃহীত হয়নি। সোমবার (২০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৭তম দিনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে তিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য

শফিকুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, "সবচেয়ে বার্নিং ইস্যু জ্বালানি সংকট নিয়ে আমরা এই সংসদে আলোচনা করতে পারলাম না। এটা কি আমাদের জন্য একটা দুর্ভাগ্য হবে না? দেশের মানুষ প্রত্যাশা করছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনি বাস্তবতা বুঝতে চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সরকারি মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে আরও তথ্য প্রয়োজন।

স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "অর্থমন্ত্রীর দেওয়া বিবৃতির সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল খুঁজে পাইনি। একদিকে বলা হচ্ছে, তেলের কোনও সংকট নাই, আরেকদিকে বাস্তবে কী ঘটতেছে সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন।" তিনি জনগণের অসন্তোষের কথা তুলে ধরে সংসদে খোলামেলা আলোচনার আহ্বান জানান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

বিরোধীদলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাবের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ এর বিরোধিতা করে বক্তব্য রাখেন। তিনি জ্বালানি সংকট নেই উল্লেখ করে বলেন, পাচার ও অপচয়ের কারণে মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শফিকুর রহমান এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খুব সুন্দর করে বলেছেন— কোনও সংকট নাই, এটা আসলে সংসদের ভেতরে নাই বাইরে। সংকট আছে বলেই হাইকোর্টের মত সেন্সিটিভ জায়গায় জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য কোর্ট ভার্চুয়ালি হচ্ছে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই সংকট সরকারের সৃষ্টি নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক বিষয়, এবং সবাই মিলে সমাধানে অবদান রাখা উচিত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আলোচনার দাবি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

শফিকুর রহমান অনুরোধ করেন যে, সংসদ নেতার উপস্থিতিতে জ্বালানি সংকট ইস্যুটি আলোচনার জন্য নির্ধারণ করা হোক। তিনি বলেন, "এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর সমস্যা জ্বালানি সংকট। এটার সঙ্গে গোটা অর্থনীতি জড়িত। আমরা কন্ট্রিবিউশন রাখতে চাই, আমাদের সুযোগ দেওয়া হোক।"

তবে, মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত না হওয়ায় এই ইস্যুতে তাৎক্ষণিক আলোচনা সম্ভব হয়নি। বিরোধীপক্ষের পক্ষ থেকে আরও চাপ দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে সরকারি দল তাদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরছে।