সাদিক কায়েমের জড়িয়ে ধরার ভাইরাল ছবি এআই প্রযুক্তিতে সম্পাদিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম ও এক নারীকে জড়িয়ে ধরার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। তবে ফ্যাক্ট চ্যাকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার নিশ্চিত করেছে যে, এই ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করা হয়েছে এবং এটি আসল নয়।
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধান ও প্রমাণ
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে রিউমর স্ক্যানারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রচারিত ছবিটিতে সাদিক কায়েম ও হিজাব পরিহিতা এক নারীকে একে অপরকে জড়িয়ে ধরতে দেখা যায়। প্রতিষ্ঠানটির অনুসন্ধানে প্রথমেই ছবির নিচের ডানকোণে গুগলের এআই অ্যাসিটেন্ট জেমিনির লোগো শনাক্ত করা হয়, যা সাধারণত এআই-সহায়তায় তৈরি বা সম্পাদিত ছবিতে ওয়াটারমার্ক হিসেবে থাকে।
ছবিটির সত্যতা যাচাই করতে রিউমর স্ক্যানার গুগলের বিশেষ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ‘SynthID’ ব্যবহার করে। এই প্রযুক্তি এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও বা অডিওতে অদৃশ্য জলছাপ যুক্ত করে, যা গুগলের নিজস্ব টুল দিয়ে শনাক্তযোগ্য। SynthID বিশ্লেষণে নিশ্চিত হয় যে, ছবিটি গুগলের এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে।
আরও প্রমাণ ও ফেসবুক অ্যাকাউন্টের ভূমিকা
পরবর্তী অনুসন্ধানে Sumaiya Banna নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সাদিক কায়েম ও আলোচিত নারীর একটি স্বাভাবিক ছবি পাওয়া যায়, যেখানে তারা একই স্থানে ও একই পোশাকে রয়েছেন। এই অ্যাকাউন্টে সাদিক কায়েমের কাছ থেকে উপহার পাওয়া আরেকটি ছবিও খুঁজে পাওয়া যায়, যা একই প্রমাণ দেয়। তবে জড়িয়ে ধরার মতো অবস্থায় ধারণ করা কোনো আসল ছবির সন্ধান মেলেনি।
এ থেকে স্পষ্ট যে, মূল স্বাভাবিক ছবিগুলো ব্যবহার করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করে ভাইরাল ছবিটি তৈরি করা হয়েছে। রিউমর স্ক্যানার সতর্ক করে দিয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের জালিয়াতি ছবি ছড়ানো হলে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং প্রামাণিক সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা জরুরি।



