জাপানের ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি কিশোরদের প্রায় ৭ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এতটাই আসক্ত যে তারা কোনোভাবেই স্ক্রিন টাইম কমাতে পারছে না। সম্প্রতি জাপানের ন্যাশনাল হসপিটাল অর্গানাইজেশনের কুরিহামা মেডিকেল অ্যান্ড অ্যাডিকশন সেন্টারের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপের বিবরণ
শনিবার (২ মে) কিয়োদো নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশজুড়ে পরিচালিত এই জরিপে ১০ থেকে ৭৯ বছর বয়সি ৯ হাজার জনের ওপর সমীক্ষা চালানো হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬৫০ জনের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যায়। দেখা যায়, ১০-১৯ বছর বয়সি গোষ্ঠীতেই আসক্তির হার সবচেয়ে বেশি।
আসক্তদের ব্যবহারের ধরন
যাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সমস্যা থাকার সন্দেহ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশ জানিয়েছে, তারা সপ্তাহের কর্মদিবসে প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় অনলাইনে থাকে। অন্যদিকে, ৬২ শতাংশ সপ্তাহান্তে একইভাবে সময় ব্যপ করে।
গবেষণার উদ্বেগ
কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, শিশুদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে অপরাধ প্রবণতা ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। জাপানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজ এজেন্সি বর্তমানে এ সমস্যা মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা করছে।
আন্তর্জাতিক উদাহরণ
তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতি থেকে রক্ষার লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া ইতোমধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান
কুরিহামা মেডিকেল অ্যান্ড অ্যাডিকশন সেন্টার অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন নিজেরাই ‘ভালো উদাহরণ’ স্থাপন করেন। পাশাপাশি, শিশুদের হাতে স্মার্টফোন দেওয়ার আগেই পরিবারের মধ্যে এর ব্যবহার নিয়ে স্পষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—যেমন কখন ও কোথায় ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে এবং নিয়ম ভঙ্গ করলে কী ধরনের পরিণতি হবে।



