এআই প্রযুক্তিতে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্ত, জরিমানা না দিলে গ্রেফতারি পরোয়ানা
এআই প্রযুক্তিতে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্ত, জরিমানা না দিলে গ্রেফতারি

রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সম্প্রতি তারা এআই-নির্ভর নতুন প্রযুক্তি চালু করেছে, যা প্রতিটি ক্রসিংয়ে সিগন্যাল বাতির সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যে কেউ ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার মোবাইল ফোনে মামলার নোটিশ পৌঁছে যাচ্ছে, পাশাপাশি জরিমানার পরিমাণও নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে।

প্রযুক্তির কার্যপ্রণালী

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ (তেজগাঁও) উপ-পুলিশ কমিশনার রফিকুল ইসলাম জানান, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহায়তায় এই প্রযুক্তি সংযোজন করেছে। প্রাথমিকভাবে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত সড়কে ২৫টি ক্যামেরা স্থাপন করে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

শনাক্তযোগ্য অপরাধসমূহ

বর্তমানে এই সিস্টেম পাঁচ ধরনের ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্ত করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে লাল বাতির সিগন্যাল অমান্য, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো রাস্তায় চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, অবৈধ পার্কিং ও লেফট লেন ব্লক করা। ভবিষ্যতে আরও ফিচার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জরিমানা না দিলে গ্রেফতারি পরোয়ানা

রবিবার (৩ মে) ডিএমপি মিডিয়া থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, মোবাইলে নোটিশ পাওয়ার পরও অনেকেই জরিমানা পরিশোধ করছেন না। যারা জরিমানা দিচ্ছেন না, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে। এই অটোমেটেড সিস্টেমটি জরিমানা না দেওয়ার বিষয়েও সতর্কবার্তা পাঠাচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরীক্ষামূলক সড়কে সাফল্য

উপ-পুলিশ কমিশনার রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, পরীক্ষামূলক সড়কের ক্রসিংগুলোতে সিগন্যাল অমান্য করার প্রবণতা ইতিমধ্যে কমে এসেছে। তিনি বলেন, 'যেই গাড়িই সিগন্যাল অমান্য করছে, সিগন্যাল বাতির সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তারা গাড়িগুলো ট্র্যাক করে মালিককে তথ্য দিচ্ছে এবং আইন ভঙ্গের জরিমানার পরিমাণও জানিয়ে দিচ্ছে।'

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে এই প্রযুক্তি পুরো রাজধানীতে সম্প্রসারণ করা হবে। ভবিষ্যতে ১১ হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি নাগরিকদের পাঠানো ভিডিও যাচাই করেও আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত ৩০ এপ্রিল ডিএমপি সদর দপ্তরে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির ৯টি সফটওয়্যার সিস্টেম চালু করেন, যার মধ্যে এই 'এআই বেইসড রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট ২০১৮ ভায়োলেশন ডিটেকশন সফটওয়্যার' অন্যতম।