ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: এআই চ্যাটবটকে প্রশ্ন সন্দেহভাজনের
ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: এআই চ্যাটবটকে প্রশ্ন সন্দেহভাজনের

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিকে নিখোঁজের আগে ও পরে হত্যা সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন করেছিলেন।

ঘটনার বিবরণ

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ক্যাম্পাসের বাইরে লিমনের সঙ্গে একই অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন আবুঘরবেহ, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থী। দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পর ফরেনসিক দল লিমনের অ্যাপার্টমেন্টে রক্তের চিহ্ন, লিমনের মানিব্যাগ ও চশমা এবং একটি গোলাপি রঙের আইফোন কাভার উদ্ধার করে, যা নাহিদা বৃষ্টির বলে ধারণা করা হয়। এছাড়া অ্যাপার্টমেন্টের ভেতর রক্তে ভেজা কাপড়ের টুকরাও পাওয়া যায়।

গ্রেপ্তার ও অভিযোগ

শুক্রবার আবুঘরবেহকে তাঁর পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২৬ বছর বয়সী আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পর্যায়ের (ফার্স্ট ডিগ্রি) দুটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন, যাতে বিচার শুরুর আগ পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চ্যাটজিপিটি প্রশ্ন

আদালতের নথি অনুযায়ী, তদন্ত কর্মকর্তারা আবুঘরবেহর ফোন ঘেঁটে তথ্য পেয়েছেন। ১৩ এপ্রিল প্রথম প্রশ্নে তিনি ‘একজন মানুষকে’ ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া সম্পর্কে জানতে চান। চ্যাটজিপিটি উত্তরে বলে, এটি ‘বিপজ্জনক শোনাচ্ছে’। এরপর তিনি ফলোআপ বার্তায় জিজ্ঞাসা করেন, ‘তারা কীভাবে জানতে পারবে?’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার এক দিন আগে আবুঘরবেহ চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করেন, ‘একটি গাড়ির যানবাহন শনাক্তকরণ নম্বর (ভিআইএন) কি পরিবর্তন করা যায়?’ এবং ‘লাইসেন্স ছাড়া বাড়িতে কি বন্দুক রাখা যায়?’ নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর তিনি চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কেউ কি স্নাইপারের গুলিতে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর বেঁচে গেছে?’ এবং ‘আমার প্রতিবেশীরা কি আমার বন্দুকের শব্দ শুনতে পাবে?’

মরদেহ উদ্ধার

গত শুক্রবার ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় কয়েকটি কালো রঙের আবর্জনা ফেলার ব্যাগের মধ্যে লিমনের মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়। মরদেহে কোনো কাপড় ছিল না এবং একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল।

তদন্তে পাওয়া অন্যান্য রেকর্ড অনুযায়ী, দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পর আবুঘরবেহ ১৬ এপ্রিল গভীর রাতে গাড়ি চালিয়ে কর্নি ক্যাম্পবেল কজওয়ে পার হয়ে স্যান্ড কি পার্ক এলাকায় যান। তাঁর গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার পথের সঙ্গে লিমনের মোবাইল ফোনের সিগন্যালের গতিপথ মিলে যায়। সে সময়ে লিমনের মোবাইলের সিগন্যাল কজওয়ে ও ক্লিয়ারওয়াটারের বিভিন্ন স্থানে শনাক্ত হয় এবং এরপর হঠাৎ সেটির সিগন্যাল বন্ধ হয়ে যায়।