আসুসের সাফল্যের রহস্য: নিজস্ব গবেষণা ও প্রকৌশলী দল
আসুসের সাফল্যের রহস্য: নিজস্ব গবেষণা ও প্রকৌশলী দল

আসুস আজ বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির নানা ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। অনেক বড় বড় ব্র্যান্ডের ভিড়ে আসুসের এই সাফল্যের নেপথ্যের কারণ কী? আসুসের শীর্ষ নির্বাহী পিটার চ্যাংয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রথম আলো।

আসুসের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি

পিটার চ্যাং বলেন, আসুসের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো পণ্য। প্রতিষ্ঠানের ১৬ হাজার কর্মীর মধ্যে ৫ হাজার ৫০০ জনই প্রকৌশলী। এখনো ইন-হাউস গবেষণা ও উন্নয়নকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনেক ব্র্যান্ড নকশা বা গবেষণার কাজ অন্য প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করালেও আসুস প্রতিটি পণ্যের নকশা নিজেই করে। এতে ব্যবহারকারীদের চাহিদার খুব কাছাকাছি পৌঁছানো যায় এবং দ্রুততম সময়ে নতুন প্রযুক্তি বাজারে আনা সম্ভব হয়। এটাই প্রধান প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা।

এআই পিসির যাত্রা ও ভবিষ্যৎ

প্রযুক্তিবিশ্বে ‘এআই’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয়জয়কার। আসুস কীভাবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে? পিটার চ্যাং বলেন, দুটি ধাপে কাজ চলছে। প্রথমত, ইনটেল, এএমডি বা কোয়ালকমের মতো প্রসেসর নির্মাতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ে বাজারে এআই পিসি নিয়ে আসা। নিজস্ব প্রকৌশলী দল থাকায় অন্যদের চেয়ে দ্রুত প্ল্যাটফর্মগুলোতে যন্ত্র তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, শুধু যন্ত্র বিক্রি নয়, বরং ব্যবহারকারী কেন এআই ব্যবহার করবেন, সেই প্রেক্ষাপট বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেমন প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানো বা ল্যাপটপের ব্যাটারি লাইফ উন্নত করা। তার বিশ্বাস, এআই পিসির যাত্রা কেবল শুরু হলো, ভবিষ্যতে আরও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশের বাজার: সম্ভাবনা ও লক্ষ্য

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বাজার দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে এখানকার বাজারকে কীভাবে দেখছেন? পিটার চ্যাং বলেন, বাংলাদেশে আসুসের উপস্থিতির বয়স ২৯ বছর। বর্তমান বাজার বছরে প্রায় ৩ লাখ ইউনিটের হলেও ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে পিসি ব্যবহারের হার এখনো বেশ কম। এখানকার বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী যখন পড়াশোনা ও কাজের জন্য ল্যাপটপের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে, তখন এই বাজার ১০ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে যাবে বলে তার বিশ্বাস। লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের ১ নম্বর ব্র্যান্ড হওয়া এবং এ বছরের মধ্যেই ৩০ শতাংশ মার্কেট শেয়ার অর্জন করা।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা: মূল্য ও সাপ্লাই চেইন

বাংলাদেশের মতো বাজারগুলোতে মূল্যের সংবেদনশীলতা বা সাপ্লাই চেইনের মতো চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে মোকাবিলা করেন? পিটার চ্যাং বলেন, বাংলাদেশের গ্রাহকেরা ল্যাপটপ কেনার সময় দামের ব্যাপারে বেশ সচেতন। ডলারের দাম বৃদ্ধি বা যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার ফলে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে ব্যবহারকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে সঠিক ও টেকসই পণ্য কেনা কেন জরুরি। লজিস্টিক বা পণ্য সরবরাহে সময় বেশি লাগা আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। গ্রাহকদের সঠিক সময়ে পণ্য পৌঁছাতে সাপ্লাই চেইন আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে।

ছাত্রদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের প্রযুক্তি

ছাত্রদের জন্য ওএলইডি পর্দা বা এনপিইউ-এর মতো ফিচারগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি? পিটার চ্যাং বলেন, ওএলইডি পর্দাকে সাধারণ গ্রাহকদের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে আসুসই প্রথম কাজ শুরু করেছিল। সে কারণেই আজ ওএলইডি ল্যাপটপের বাজারের ৮০ শতাংশ আসুসের দখলে। সব সময় চেষ্টা করা হয় এআই পিসি বা নতুন প্রযুক্তিগুলো যেন শুধু দামি যন্ত্রেই সীমাবদ্ধ না থাকে। এনপিইউ বা এআই সক্ষমতাও ধীরে ধীরে এন্ট্রি-লেভেল ল্যাপটপে নিয়ে আসা হচ্ছে।

তরুণ প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য পরামর্শ

বাংলাদেশের যাঁরা প্রযুক্তিতে পেশা গড়তে চান, তাঁদের জন্য পিটার চ্যাংয়ের পরামর্শ: নতুন কিছু জানার আগ্রহ বা কৌতূহল থাকতে হবে। হাতে থাকা ফোন বা কম্পিউটার কীভাবে কাজ করছে, কেন এটি দ্রুত বা ধীর হচ্ছে, এই প্রশ্নগুলো করতে হবে। এই কৌতূহল থেকেই জ্ঞান তৈরি হয়। সেই সঙ্গে পরিশ্রমী ও সক্রিয় হতে হবে। সুযোগ দরজায় কড়া নাড়বে, কিন্তু সেটি গ্রহণ করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হবে।

ব্যক্তিগত পছন্দ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

কাজের বাইরে কোন ধরনের প্রযুক্তি সবচেয়ে বেশি টানে? পিটার চ্যাং বলেন, তিনি এখনো গেমিং প্রযুক্তি নিয়ে খুব রোমাঞ্চিত। ছাত্র অবস্থায় প্রচুর গেমস খেলতেন। এখনো আসুসের হ্যান্ডহেল্ড গেমিং যন্ত্রগুলোতে নিয়মিত গেম খেলেন।

যদি প্রযুক্তিজগতে না আসতেন, তবে কোন পেশা বেছে নিতেন? তিনি বলেন, সমাজবিজ্ঞান ও ব্যবসা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, তাই সম্ভবত অন্য কোনো ধরনের ব্যবসায় যুক্ত থাকতেন। তবে প্রযুক্তি ছাড়া জীবন ভাবা এখন কঠিন।

বাংলাদেশের গ্রাহকদের প্রতি বার্তা

বাংলাদেশের গ্রাহক এবং আসুস ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে পিটার চ্যাংয়ের বিশেষ বার্তা: যাঁরা আসুসের ওপর আস্থা রেখেছেন, তাঁদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আসুস চায়, বাংলাদেশের মানুষ নতুন প্রযুক্তিকে আপন করে নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যাক। আসুস বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে পণ্য ও সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। খুব শিগগির বাংলাদেশের দোকানগুলোতে আরও বৈচিত্র্যময় পণ্য ও আন্তর্জাতিক মানের তথ্যসেবা দেখা যাবে।