অ্যাপল বনাম স্যামসাং: কার ওয়ারেন্টি পরিকল্পনা সেরা?
অ্যাপল বনাম স্যামসাং: কার ওয়ারেন্টি পরিকল্পনা সেরা?

প্রিমিয়াম স্মার্টফোন কেনা বড় অঙ্কের বিনিয়োগ; দুর্ঘটনাবশত ক্ষতি মেরামতের খরচও আকাশছোঁয়া। বর্তমানে অ্যাপল ও স্যামসাং তাদের ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসের (আইফোন ১৭ ও গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজ) সঙ্গে ১ বছরের সীমিত ওয়ারেন্টি দেয়, যা শুধু হার্ডওয়্যার ত্রুটি ও নির্মাণজনিত সমস্যা কভার করে। ব্যবহারকারীর ভুলে সফটওয়্যার সমস্যা বা দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি এর আওতাভুক্ত নয়। তাই গ্রাহকদের বাড়তি সুরক্ষা প্ল্যান কিনতে হয়। অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের এই প্ল্যানগুলোর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য ক্রেতার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

অ্যাপল কেয়ার প্লাস: একাধিক ডিভাইসের সর্বোচ্চ সুরক্ষা

অ্যাপলের প্রিমিয়াম সুরক্ষা সেবা ‘অ্যাপল কেয়ার প্লাস’ তৈরিকৃত ত্রুটির বাইরে দুর্ঘটনাবশত ক্ষতি, চুরি ও হারিয়ে যাওয়ার কভারেজ দেয়। ‘AppleCare+ with Theft and Loss’ প্ল্যানে দুর্ঘটনাবশত ক্ষতির জন্য আনলিমিটেড মেরামত ও প্রতি ১২ মাসে সর্বোচ্চ দুটি চুরি বা হারিয়ে যাওয়ার দাবি করার সুযোগ থাকে। গ্রাহকরা মাসিক বা বার্ষিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারেন।

একাধিক অ্যাপল ডিভাইস ব্যবহারকারীদের জন্য ‘AppleCare One’ প্ল্যানে একসঙ্গে ৩টি ডিভাইস কভার করা যায়, চুরি বা হারানোর ক্লেম বছরে ৩টি পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং নষ্ট ফোন জমা দেওয়ার আগেই অগ্রিম প্রতিস্থাপনকারী ডিভাইস সরবরাহ করা হয়। তবে এটি শুধুমাত্র মাসিক বিলিংয়ের মাধ্যমেই সচল করা সম্ভব।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্যামসাং কেয়ার প্লাস: নমনীয়তা ও সাশ্রয়ী মেরামত

স্যামসাং ব্যবহারকারীদের জন্য ‘Samsung Care+’ এবং ‘Samsung Care+ with Theft and Loss’ রয়েছে। ডিভাইসের মডেল অনুযায়ী ৪টি প্রাইস টিয়ারে বিভক্ত এই সেবায় দুর্ঘটনাবশত ক্ষতির জন্য আনলিমিটেড কভারেজ পাওয়া যায়, তবে যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়া অন্য মেরামতের জন্য ২৯ ডলার সার্ভিস ফি দিতে হয়। চুরি ও হারানোর কভারেজসহ প্ল্যানটিতে বছরে সর্বোচ্চ ৩টি ক্লেম করা যায় এবং একই দিনে প্রতিস্থাপনকারী ডিভাইস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় স্যামসাং। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, স্ক্রিন বা পেছনের গ্লাস ফেটে গেলে বাড়তি কোনো ডিডাক্টিবল বা সার্ভিস চার্জ দিতে হয় না।

খরচ এবং ডিভাইস নিবন্ধনের পার্থক্য

অ্যাপলের সবচেয়ে দামি ফোন ‘আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স’-এর জন্য ৩টি ডিভাইস কভারসহ ২ বছরের ‘AppleCare One’ প্ল্যানের খরচ প্রায় ৪০০ ডলার (মাসিক বিলিংয়ে)। অন্যদিকে, স্যামসাংয়ের ‘গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা’-র জন্য সমপর্যায়ের একক ডিভাইস সুরক্ষাসহ ‘Samsung Care+’ প্ল্যানের এককালীন খরচ ৩৪৯ ডলার।

ডিভাইস নিবন্ধনের ক্ষেত্রে স্যামসাং অনেক বেশি নমনীয়। ফোন কেনার ৬০ দিন পার হয়ে গেলেও গ্রাহকরা অনলাইনেই ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে প্ল্যানটি কিনতে পারেন। বিপরীতে, অ্যাপলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলে অনলাইন ভেরিফিকেশন কাজ করে না; গ্রাহককে সশরীরে অ্যাপল স্টোরে গিয়ে ডিভাইস পরীক্ষা করাতে হয়।

আন্তর্জাতিক ওয়ারেন্টি সাপোর্ট: এগিয়ে অ্যাপল

ভ্রমণকারীদের জন্য আন্তর্জাতিক ওয়ারেন্টির ক্ষেত্রে অ্যাপল বেশ সুবিধাজনক। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ মজুত থাকা সাপেক্ষে অ্যাপল বিশ্বব্যাপী মেরামত সুবিধা দেয়। তুলনামূলকভাবে স্যামসাংয়ের আন্তর্জাতিক ওয়ারেন্টি কিছুটা জটিল ও সীমাবদ্ধ। বিভিন্ন ফোরাম ও কমিউনিটি পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সে কেনা স্যামসাং ফোন সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানীয় ক্রয়ের রশিদ না থাকার কারণে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়নি। এছাড়া অনেক ব্যবহারকারীই নিজ দেশের বাইরে স্যামসাংয়ের ওয়ারেন্টি সুবিধা পেতে ভোগান্তির কথা উল্লেখ করেছেন।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার পক্ষে?

উভয় প্রতিষ্ঠানই প্রিমিয়াম সেবা দিলেও তা ভিন্ন ঘরানার ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। আপনি যদি ঘনঘন বিদেশে ভ্রমণ করেন কিংবা আপনার কাছে একাধিক আইফোন বা অ্যাপল ডিভাইস থাকে, তবে অ্যাপলের প্ল্যানটি আপনার জন্য সেরা। আর আপনি যদি স্ক্রিন ভাঙার অতিরিক্ত খরচ এড়াতে চান এবং ফোন কেনার বেশ কিছুদিন পরও সহজে ঘরে বসে কভারেজ নিতে চান, তবে স্যামসাংয়ের পরিকল্পনাটি আপনার জন্য বেশি আকর্ষণীয় হবে।

সূত্র: সামা টিভি