ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী ও দুই শিক্ষক একটি ফার্মিং রোভার, জলযান ও ড্রোনের মডেল তৈরি করেছেন, যা কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যবহার করা যাবে। ফার্মিং রোভার জমি ও ফসলের অবস্থা বিশ্লেষণ করবে, জলযান মাছের চাষ ও মাছ ধরার কাজে নজর রাখবে, আর ড্রোন সহায়ক কাজে ব্যবহৃত হবে।
জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ১০১ দল
আজ রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’-এ শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণা তুলে ধরেছে। জেলা ও মহানগর পর্যায় থেকে নির্বাচিত ১০১টি দল এতে অংশ নিচ্ছে। আগামীকাল সোমবার চূড়ান্ত প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্ভাবনের বিস্তারিত
দলের সদস্য মো. আমজাদ হোসেন সাদিক (অষ্টম শ্রেণি) জানায়, ফার্মিং রোভার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরার মাধ্যমে গাছের আক্রান্ত অংশ শনাক্ত করবে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিকার দেবে। কোনো অংশ রক্ষা করা সম্ভব না হলে লেজারের সাহায্যে কেটে ফেলবে, যাতে পুরো গাছ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। স্বয়ংক্রিয় জলযান অক্সিজেনসহ বিভিন্ন উপাদান পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। ড্রোন কৃষি ও মৎস্য খাতের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে।
দলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মঈন উদ্দিন বলেন, “বর্তমানে বাজারে যেসব রোভার রয়েছে, সেগুলো মূলত রোগ দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়। আমাদের উদ্ভাবনের লক্ষ্য হলো রোগ ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা শনাক্ত করে প্রতিকার নিশ্চিত করা। এতে কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং কৃষকদের কল্যাণ হবে।”
অন্যান্য উদ্ভাবন
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের সরকারি পাতারহাট মুসলিম মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এআই-নিয়ন্ত্রিত বোমা নিষ্ক্রিয়করণ রোবট প্রদর্শন করছে। ঢাকার সরকারি বিজ্ঞান কলেজের তিন শিক্ষার্থী একটি রকেট প্রকল্প এনেছে। দলের সদস্য রিফাত আহমেদ বলেন, “রকেট নতুন কোনো প্রযুক্তি নয়। আমাদের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহাকাশবিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহ তৈরি করা এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও যেন মহাকাশচারী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে।”
কুড়িগ্রামের চিলমারী সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা স্মার্ট সিটির ধারণা, কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা বাক্প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অভিব্যক্তি প্রকাশে সহায়ক একটি ব্যবস্থা, এবং নেত্রকোনার বারহাট্টার বাউসী অর্দ্ধচন্দ্র উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ওয়েবসাইটভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের ধারণা উপস্থাপন করেছে।
প্রতিযোগিতার কাঠামো
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো এই আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিযোগিতাটি উপজেলা বা থানা, জেলা এবং জাতীয়—এই তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১২ জুন ৫২১টি উপজেলা ও মহানগরীর শিক্ষা থানায় ৮ হাজার ২৯টি দলে ২৭ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী এবং ১৬ হাজার ৫৮ জন শিক্ষক অংশ নেন। পরে উপজেলা থেকে নির্বাচিত ৫৪৬টি দল ১৪ জুন জেলা পর্যায়ে অংশ নেয়। সেখান থেকে বাছাই হয়ে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে এসেছে ১০১টি দল।
পুরস্কার ও সমাপনী
জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা থেকে সেরা ১০টি দল নির্বাচিত হবে। বিজয়ী শিক্ষার্থীরা পাবেন ২০ হাজার টাকা ও সনদপত্র। বিজয়ী শিক্ষকেরা পাবেন ৩০ হাজার টাকা ও সনদপত্র। আগামীকাল বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, “এই আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যার স্থানীয় সমাধান খুঁজে বের করারও সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পথও উন্মুক্ত হবে।”



