অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে সাধারণত একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও সাইবার অপরাধীদের নিত্যনতুন কৌশলের কারণে ব্যবহারকারীরা প্রতিনিয়ত ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার এবং অন্যান্য ক্ষতিকর সফটওয়্যারের ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসগুলো সাধারণত সুরক্ষিত হলেও ফোন হ্যাক বা সংক্রমিত হয়েছে কিনা তা বুঝতে ব্যবহারকারীদের সবসময় সতর্ক থাকা উচিত। ম্যালওয়্যার শুধু ফোনের কার্যক্ষমতাই কমায় না, বরং ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়।
ভাইরাস সংক্রমণের ৪টি প্রধান লক্ষণ
১. ফোনের অস্বাভাবিক আচরণ
ম্যালওয়্যার সংক্রমণের অন্যতম সাধারণ লক্ষণ হলো ডিভাইসের অপ্রত্যাশিত আচরণ। যদি আপনার ফোন আপনার অজান্তেই নিজে নিজে টেক্সট মেসেজ পাঠাতে শুরু করে, কাউকে কল দেয়, কোনো অ্যাপ খুলে যায় কিংবা স্ক্রিনে হঠাৎ পপআপ বিজ্ঞাপন ভেসে ওঠে, তবে বুঝতে হবে ব্যাকগ্রাউন্ডে কোনো ক্ষতিকর সফটওয়্যার সচল রয়েছে। এছাড়া ফোনে নিজে থেকে কোনো অপরিচিত অ্যাপ ইনস্টল হয়ে গেলেও সতর্ক হওয়া জরুরি।
২. অনলাইন অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল বা ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখা দিলে বুঝতে হবে আপনার লগইন তথ্য চুরি হয়েছে। যদি আপনার অজান্তেই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন হয়ে যায়, অপরিচিত কোনো স্থান থেকে লগইন অ্যালার্ট আসে বা কোনো কার্যক্রম ঘটে, তবে এটি ম্যালওয়্যারের কাজ হতে পারে।
৩. হঠাৎ ডাটা ব্যবহার বেড়ে যাওয়া
মোবাইল ডাটার ব্যবহার হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়াও একটি বড় সতর্কবার্তা। ক্ষতিকর অ্যাপগুলো সাধারণত ব্যাকগ্রাউন্ডে লুকিয়ে থেকে বাইরের সার্ভারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তথ্য আপলোড করে। এর ফলে ব্যবহারকারীর অজান্তেই প্রচুর ডাটা খরচ হয় এবং ফোনের বিল বেড়ে যেতে পারে।
৪. দ্রুত ব্যাটারি শেষ হওয়া এবং ফোন গরম হওয়া
ভারি কোনো কাজ বা গেম খেলা ছাড়াই যদি আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ব্যাটারি স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত শেষ হতে থাকে কিংবা ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, তবে ব্যাকগ্রাউন্ডে ম্যালওয়্যার চলার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও পুরনো হার্ডওয়্যারের কারণেও এমনটা হতে পারে, তবে প্রতিনিয়ত এই সমস্যা হওয়া মানে কোনো ক্ষতিকর অ্যাপ ফোনের প্রসেসর ও র্যাম ব্যবহার করছে।
আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে
আপনার ফোন ভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ হলে বিশেষজ্ঞরা অবিলম্বে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন:
- ‘সেফ মোড’ চালু করুন: ফোন সেফ মোডে রিস্টার্ট করলে সব থার্ড-পার্টি অ্যাপ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যা ক্ষতিকর অ্যাপ শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
- অ্যাপস মুছে ফেলুন: সম্প্রতি ইনস্টল করা বা সন্দেহজনক মনে হওয়া অ্যাপগুলো দ্রুত আনইনস্টল করে দিন।
- অ্যাপ পারমিশন যাচাই করুন: আপনার ফোনের অ্যাপগুলো কী কী তথ্য ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে রেখেছে তা রিভিউ করুন এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যাক্সেস বন্ধ করুন।
- গুগল প্রটেকশন অন করুন: গুগলের ‘অ্যাডভান্স প্রটেকশন’ ফিচারগুলো চালু রাখুন।
- বিশ্বস্ত উৎস ব্যবহার করুন: গুগল প্লে স্টোর ছাড়া অন্য কোনো অপরিচিত ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করবেন না।
- আপডেট রাখুন: আপনার অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এবং সব অ্যাপস সবসময় আপ-টু-ডেট রাখুন।
- সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক এড়িয়ে চলুন: ইমেইল, মেসেজ বা ওয়েবসাইটে আসা যেকোনো সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন।
- শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন: অনলাইন অ্যাকাউন্টগুলোর জন্য সবসময় জটিল এবং অনন্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।
যদি আপনি নিশ্চিত হন যে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়েছে, তবে অবিলম্বে আপনার মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, সব অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি অবহিত করুন।
সূত্র: সামা টিভি



