ম্যাক ব্যবহারকারীদের জন্য একটি নতুন এআই প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে গুগল। এআই এজ গ্যালারি নামের এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই নিজেদের ডিভাইসেই এআই মডেল চালাতে পারবেন।
কীভাবে কাজ করে এআই এজ গ্যালারি?
ক্লাউডভিত্তিক এআই সেবা যেমন চ্যাটজিপিটি, ক্লড বা জেমিনি-এর বিপরীতে স্থানীয়ভাবে (অন-ডিভাইস) পরিচালিত এআই মডেল সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে কাজ করে। ফলে ইন্টারনেট ছাড়াও এআই ব্যবহার করা সম্ভব হয় এবং ব্যক্তিগত তথ্য বাহ্যিক সার্ভারে পাঠানোর প্রয়োজন পড়ে না, যা গোপনীয়তা সুরক্ষায় সহায়ক।
স্থানীয় এআই ব্যবহারের সুবিধা
স্থানীয় এআই মডেলগুলো সাধারণত ক্লাউডভিত্তিক বৃহৎ মডেলের তুলনায় ছোট হলেও এগুলোর বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। ব্যবহারকারীরা অফলাইনে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন, শক্তিশালী হার্ডওয়্যারে দ্রুত সাড়া পান এবং সংবেদনশীল তথ্য নিজেদের ডিভাইসেই সংরক্ষণ করতে পারেন। এতদিন ম্যাক ব্যবহারকারীরা স্থানীয় এআই মডেল চালানোর জন্য মূলত ওলামা বা এলএম স্টুডিও-এর মতো তৃতীয় পক্ষের সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করতেন।
পাঁচটি জেমা মডেল দিয়ে যাত্রা
প্রাথমিকভাবে এআই এজ গ্যালারিতে গুগলের নিজস্ব পাঁচটি ইনস্ট্রাকশন-টিউনড জেমা মডেল যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো—জেমা-৪-১২বি-আইটি, জেমা-৪-ই২বি-আইটি, জেমা-৪-ই৪বি-আইটি, জেমা-৩এন-ই২বি-আইটি এবং জেমা-৩এন-ই৪বি-আইটি। ওলামা বা এলএম স্টুডিওর মতো বিভিন্ন ডেভেলপারের মডেল সমর্থন না করে বর্তমানে অ্যাপটি শুধুমাত্র গুগলের জেমা সিরিজের মডেলগুলোর ওপরই কেন্দ্রিত।
নতুন মাল্টিমোডাল জেমা ৪ ১২বি
একই সঙ্গে গুগল জেমা ৪ ১২বি নামে একটি নতুন মাল্টিমোডাল এআই মডেলও উন্মোচন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ১২ বিলিয়ন প্যারামিটারের এই মডেলটি ২৬ বিলিয়ন প্যারামিটারের অনেক বড় মডেলের সমতুল্য পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। মডেলটি ১৬ জিবি র্যামযুক্ত সাধারণ ল্যাপটপেও চালানো যাবে। এটি টেক্সট, ছবি ও অডিও প্রসেসিংয়ে সক্ষম এবং কনটেন্ট তৈরি, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও ডেটা অ্যানালাইসিসের মতো বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে।
নতুন এআই ডিকটেশন অ্যাপ
এআই এজ গ্যালারির পাশাপাশি ম্যাক ব্যবহারকারীদের জন্য এআই এজ এলোকুয়েন্ট নামে একটি নতুন ডিকটেশন অ্যাপও চালু করেছে গুগল। বিনামূল্যের এই অ্যাপ ব্যবহারকারীর কথাকে লিখিত টেক্সটে রূপান্তর করে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপ্রয়োজনীয় শব্দ বাদ দিয়ে লেখাকে আরও প্রাঞ্জল ও পাঠযোগ্য করে তোলে। সব ধরনের প্রসেসিং ডিভাইসের ভেতরেই সম্পন্ন হওয়ায় ব্যবহারকারীর তথ্যের গোপনীয়তা বজায় থাকে। এছাড়া ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী আউটপুটের ধরন নির্ধারণ করতে পারবেন এবং বিশেষ নাম, প্রযুক্তিগত শব্দ বা নির্দিষ্ট শিল্পখাতের পরিভাষাও যুক্ত করতে পারবেন।
অন-ডিভাইস এআইয়ের দিকে ঝুঁকছে প্রযুক্তি খাত
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ প্রযুক্তি খাতের একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, যেখানে ক্লাউডভিত্তিক অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি ব্যক্তিগত ডিভাইসে এআই পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হার্ডওয়্যারের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো গোপনীয়তা বৃদ্ধি, দ্রুত সাড়া প্রদান এবং ইন্টারনেট নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে অন-ডিভাইস এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগ করছে।
গুগলের এআই এজ গ্যালারি ইতোমধ্যে ম্যাকওএস-এর জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। এর আগে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস সংস্করণ চালু ছিল। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি অন-ডিভাইস এআই টুলের পরিসর আরও সম্প্রসারণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



