স্মার্টফোনের ক্যামেরা কাজে লাগিয়ে ছবি তোলা, ভিডিও করা ও নিয়মিত ভিডিও কল করেন অনেকে। তবে স্মার্টফোনের এই ক্যামেরা হ্যাক করে দূর থেকে গোপনে নজরদারি চালায় সাইবার অপরাধীরা। একবার ফোনের ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে ব্যবহারকারীর অজান্তেই ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে পারে তারা। গোপনে ধারণ করা ছবি বা ভিডিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজেদের দখলে নিয়ে ব্ল্যাকমেল, পরিচয় চুরি বা অন্যান্য অপরাধে ব্যবহার করে সাইবার অপরাধীরা। ফলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে।
কীভাবে ফোনের ক্যামেরা হ্যাক করা হয়
ফোনে ম্যালওয়্যার বা স্পাইওয়্যার প্রবেশ করিয়েই মূলত দূর থেকে ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নেয় সাইবার অপরাধীরা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যেসব অ্যাপকে ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমেই ফোনের ক্যামেরা হ্যাক করা হয়। অনেক সময় ক্ষতিকর অ্যাপ ইনস্টলের সময় কৌশলে ফোনের ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে নেয়। এরপর সেই অ্যাপ গোপনে ক্যামেরা ব্যবহার করে ছবি বা ভিডিও ধারণ করে সাইবার অপরাধীদের কাছে পাঠাতে থাকে।
ফোনের ক্যামেরা দিয়ে সরাসরি নজরদারি কি সম্ভব
কিছু ক্ষেত্রে ফোনের ক্যামেরা কাজে লাগিয়ে দূর থেকে সরাসরি ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি করে সাইবার অপরাধীরা। তবে সাধারণত তখনই এমনটি ঘটে, যখন ফোনে থাকা ম্যালওয়্যার ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি পেয়ে যায়। ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া দূর থেকে ফোনের ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করা কখনোই সম্ভব নয়।
ফোনের ক্যামেরা গোপনে চালু হওয়ার সাধারণ লক্ষণ
ফোনের ক্যামেরা গোপনে চালু হলে ফোনে কিছু অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়। যদিও অনেক সময় সফটওয়্যারের ত্রুটির কারণেও ফোনে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। তবে নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো বারবার দেখা গেলে বুঝতে হবে, ফোনের ক্যামেরা গোপনে চালু রয়েছে:
- ক্যামেরার নির্দেশক আলো জ্বলে ওঠা: ফোন ব্যবহার না করলেও হঠাৎ ক্যামেরার নির্দেশক আলো জ্বলে ওঠা।
- ক্যামেরা অ্যাপের অস্বাভাবিক আচরণ: ক্যামেরা অ্যাপ বারবার চালু বা বন্ধ হয়ে যাওয়া।
- গ্যালারিতে অচেনা ফাইল: ফোনের গ্যালারিতে অচেনা ছবি বা ভিডিও থাকা।
- ফোনের অতিরিক্ত গরম হওয়া: ফোন অতিরিক্ত গরম বা দ্রুত চার্জ শেষ হওয়া।
- ইন্টারনেট ডেটা ব্যবহার বৃদ্ধি: ইন্টারনেট ডেটা ব্যবহার অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া।
সূত্র: ক্যাসপারস্কি
প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



