বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইওহান বুসে বলেছেন, বাংলাদেশের টেলিকম খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো উচ্চ কর, জটিল নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ও নীতির ধারাবাহিকতার অভাব। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
কর কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ জটিলতা
ইওহান বুসে বলেন, 'বাংলাদেশে টেলিকম খাতে করের বোঝা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। সিঙ্গাপুরে কর্পোরেট কর ২২-২৩ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে তা প্রায় ৫০ শতাংশ। এছাড়া সিম কার্ড ট্যাক্সসহ নানা শুল্ক-কর রয়েছে। গ্রাহকের কাছ থেকে ১০০ টাকা সংগ্রহ করলে ৭০ টাকা সরকারি কোষাগারে চলে যায়, ফলে আমাদের হাতে সামান্যই থাকে।'
তিনি আরও বলেন, 'রাজস্ব আদায়ে কিছু অদ্ভুত নিয়ম রয়েছে। যেমন কোম্পানিকে লেনদেনের ওপর কর দিতে হয়, অথচ কর হওয়া উচিত মুনাফার ওপর। স্পেকট্রাম ব্যবহারের খরচও বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।'
ইতিবাচক পদক্ষেপ
তবে গত ছয়-সাত মাসে কিছু ভালো পদক্ষেপ দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। 'টেলিকম খাতে প্রায় ২৬টি ভিন্ন ভিন্ন নিবন্ধন ছিল, এখন তা কমিয়ে ১৩টিতে আনা হয়েছে। এটি ইতিবাচক।'
বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বাংলালিংক বাংলাদেশে ২১ বছর ধরে ব্যবসা করছে এবং ২৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। গত চার বছরেই অবকাঠামো ও নেটওয়ার্কের জন্য ৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। তবে কোম্পানি এখনো লোকসানে রয়েছে। ইওহান বুসে বলেন, 'আমরা কোনো ডিভিডেন্ড পাইনি। তারপরও আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। আরও ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে।'
আইপিও ও ডিজিটাল ব্যাংক
বাংলালিংক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চায়। ইওহান বুসে বলেন, 'আমরা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশে ও আন্তর্জাতিক আইপিওতে যেতে চাই। আমরা চাই বাংলাদেশের প্রথম কোম্পানি হিসেবে নাসডাকে তালিকাভুক্ত হতে।'
ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য আবেদন করা হয়েছে। স্কয়ারের সঙ্গে অংশীদারত্বে এটি চালু হবে। ইওহান বুসে বলেন, 'দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী এখনো ব্যাংকিং সেবার বাইরে। অনুমোদন পেলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ক্ষুদ্রঋণসহ পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংক সেবা চালু হবে।'
ইন্টারনেটের দাম ও মান
গ্রাহকের অভিযোগ সম্পর্কে ইওহান বুসে বলেন, 'মাথাপিছু আয়ের অনুপাতে বাংলাদেশে প্রতি জিবি ইন্টারনেটের দাম বিশ্বে অন্যতম সর্বনিম্ন। নেটওয়ার্কের অসামঞ্জস্যতার কারণ হলো বিভিন্ন স্থানে টাওয়ার বসানোর অনুমতি না পাওয়া।'
স্টারলিংক ও ফাইভ-জি
আগামী মাস থেকে স্টারলিংকের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা চালু হবে। ইওহান বুসে বলেন, 'একজন জেলে সমুদ্রের ২০ কিলোমিটার গভীরেও স্টারলিংকের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে।' ফাইভ-জি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'বাজার এখনো প্রস্তুত নয়। অর্ধেক গ্রাহকের কাছে স্মার্টফোন নেই। তবে এখনই কাজ শুরু করা উচিত।'



