বাংলাদেশে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের চাহিদা দিন দিন বাড়লেও এর গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেল হিসেবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) এখনও একটি অজানা সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে রয়ে গেছে। অনেক ব্যবসায়ী মনে করেন, ওয়েবসাইট বানালেই ব্যবসা বাড়বে, কিন্তু বাস্তবতা হল যদি সেটা গুগলের প্রথম পেজের ১ নম্বর স্থানে না থাকে, তাহলে সম্ভাব্য ক্রেতারা সেটা খুঁজেই পাবে না। বাংলাদেশের স্বনামধন্য ডিজিটাল মার্কেটিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান VISER X প্রমাণ করছে কীভাবে এসইও দিয়ে ব্যবসাকে গুগলের প্রথম স্থানে নিয়ে আসার পাশাপাশি গ্রোথ বাড়ানো যায়।
বাংলাদেশে এসইও: এখনও অনেকটাই অদেখা সম্ভাবনা
বাংলাদেশে বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখনও এসইওকে একটি জটিল এবং ব্যয়বহুল সেবা মনে করে। অনেকেই শুধুমাত্র পেইড বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভর করে এবং অর্গানিক গ্রোথের গুরুত্ব বুঝতে পারে না। আমাদের দেশে অনেক ব্যবসায়ী এসইও'র জন্য বিনিয়োগকে এক্সপেন্স মনে করলেও, এটি মূলত একটি কার্যকরী ইনভেস্টমেন্ট যা দীর্ঘমেয়াদি রেজাল্ট নিশ্চিত করে। তাই বাংলাদেশের বিজনেসগুলোর উচিত এখন থেকেই এসইওতে ইনভেস্ট করে নিজেদের ব্র্যান্ডকে সার্চ ইঞ্জিনে এবং এআই সার্চে টপে নিয়ে আসা।
বাংলাদেশ কেন এই কনটেক্সটে এখনও পিছিয়ে?
প্রথমত, সচেতনতার অভাব। অনেক উদ্যোক্তা জানেন না যে এসইও'র মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই বিজনেস গ্রোথ সম্ভব। দ্বিতীয়ত, স্কিল্ড প্রোফেশনালদের অভাব। বাংলাদেশে যারা প্রকৃত অর্থে এসইও বোঝে এবং রেজাল্ট-ড্রিভেন কাজ করতে পারে, তাদের সংখ্যা এখনও সীমিত। তৃতীয়ত, ইনস্ট্যান্ট রেজাল্টের আশা। অনেকে ভাবেন এসইও করলে রাতারাতি ব্যবসা বদলে যাবে। কিন্তু এসইও একটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ যাতে প্রয়োজন ধৈর্য এবং সঠিক টেকনিক।
এসইও কেন বাংলাদেশী ব্যবসাগুলোর জন্য অত্যন্ত জরুরি এবং ফলপ্রসূ?
ভাইজার এক্স এর সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, বাংলাদেশে ৭৮ শতাংশ ইউজাররা গুগল সার্চের প্রথম পাতার ফলাফলেই ক্লিক করেন। দ্বিতীয় পাতায় যাওয়ার হার মাত্র ৫ শতাংশ। এর মানে হলো, যদি আপনার ব্যবসা গুগলের প্রথম পাতায় না থাকে, তাহলে আপনি ৭৮ শতাংশ সম্ভাব্য ক্রেতাকে হারাচ্ছেন প্রতিদিন। শুধুমাত্র পেইড বিজ্ঞাপন চালিয়ে যাওয়া যেমন ব্যয়বহুল ঠিক তেমনই অস্থায়ী সমাধান। বিজ্ঞাপন বন্ধ হলে ভিজিটর বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এসইও একটি দীর্ঘমেয়াদী ফাউন্ডেশন তৈরি করে যা কোনোরকম অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা ছাড়াই মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কাজ করে।
ভাইজার এক্স কীভাবে বাংলাদেশে এসইও ইন্ডাস্ট্রিকে রূপান্তরিত করছে?
ভাইজার এক্স বাংলাদেশের ডিজিটাল মার্কেটিং ইন্ডাস্ট্রিতে সবসময়ই মাইলফলক স্থাপন করে আসছে। তারা প্রমাণ করছে যে সঠিক কৌশল এবং ডেটা-ড্রিভেন পদ্ধতির মাধ্যমে লোকাল বিজনেসগুলো আন্তর্জাতিক মানের ফলাফল অর্জন করতে পারে। ভাইজার এক্স-এর এসইও মূলত তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে: শুরুতে, ডিপ মার্কেট এনালাইসিস এবং কম্পিটিটর বিশ্লেষণ- ভাইজার এক্স প্রতিটি ব্র্যান্ডের জন্য কাস্টমাইজড রোডম্যাপ তৈরি করে, যেখানে তারা শুধু কীওয়ার্ড নয়, বরং টার্গেট কাস্টমারের বিহেভিয়ার, সার্চ প্যাটার্ন এবং মার্কেট ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করে। এর মাধ্যমে তারা নিশ্চিত করতে পারে যে সম্ভাব্য ক্রেতারা যখন তাদের খুঁজছেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই ব্র্যান্ডটি তাদের সামনে উপস্থিত হচ্ছে। তারপর, এসইও এবং ওয়েবসাইট অপটিমাইজেশন- ভাইজার এক্স শুধু এসইও স্ট্র্যাটেজি তৈরি করেই থেমে থাকে না। তারা ওয়েবসাইটের আর্কিটেকচার, স্পিড, মোবাইল ফ্রেন্ডলিনেস, ইউজার এক্সপেরিয়েন্স এবং টেকনিক্যাল স্ট্রাকচার পুরোপুরি ঠিক করে। এর মাধ্যমে গুগলের অ্যালগরিদম যেমন হ্যাপি হয়, তেমনি ভিজিটররাও ভালো ইউজার এক্সপেরিয়েন্স পেয়ে ওয়েবসাইটে বেশি সময় থাকে এবং শুরু করে কনভার্সন জার্নি। অবশেষে, ক্রমাগত পারফরম্যান্স ট্র্যাকিং এবং অপটিমাইজেশন- ভাইজার এক্স প্রতিটি ক্যাম্পেইনের পারফরম্যান্স রিয়েল টাইমে ট্র্যাক করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন করে। তাদের বিশেষজ্ঞ টিম মান্থলি রিপোর্ট, ট্র্যাফিক অ্যানালিসিস এবং কনভার্সন ডেটা ব্যবহার করে ক্রমাগত রেজাল্ট ইম্প্রুভমেন্টে কাজ করে।
এবং এসবের সফলতা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। ব্র্যাক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, নগদ, আকিজ গ্রুপ, প্রাণ-আরএফএল, শেয়ারট্রিপ, অ্যাপল গ্যাজেটস, ডিবিএল গ্রুপ এবং পদ্মা ব্যাংকসহ দেশের আরও বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান তাদের ডিজিটাল মার্কেটিং সেবার জন্য প্রতিনিয়ত আস্থা রাখছে VISER X এর উপর। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট viserx.com এ গিয়ে তাদের সেবা এবং সাফল্যের গল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
সাফল্য এখন আর কাকতালীয় নয়, বরং কৌশলের ফল
ডিজিটাল যুগে টিকে থাকতে হলে শুধু ওয়েবসাইট বানালেই হবে না, সেটা মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। বাংলাদেশের ই-কমার্স এবং সেবা খাতের জন্য এসইও এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং সফলতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভাইজার এক্স-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল মোস্তফা বলেন, 'বাংলাদেশের প্রতিটি ব্যবসারই গুগলে র্যাংক করার সুযোগ আছে এবং সেটা এখনই শুরু করা উচিত। কারণ এসইও হলো সময়ের খেলা, তাই আপনি যত দ্রুত আপনার কম্পিটিটর এর আগে এটি শুরু করবেন, আপনার বিজনেস গ্রোথ এবং সাকসেস তত দ্রুত নিশ্চিত হবে।' সঠিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি ব্যবসার চেহারা পাল্টে দিতে পারে। প্রয়োজন শুধু মাইন্ড সেটের এবং ধৈর্য্যের। আপনার ব্যবসাকে অনলাইনে আরও দৃশ্যমান ও সফল করতে অভিজ্ঞ এসইও পার্টনার হিসেবে VISER X হতে পারে আপনার নির্ভরযোগ্য সহযোগী।



