ট্রাম্পের এআই ছবি ইরানি দূতাবাসের ট্রলের শিকার
ট্রাম্পের এআই ছবি ইরানি দূতাবাসের ট্রলের শিকার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব স্টাইলের পোস্ট মানেই নতুন কোনো আলোচনা বা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তবে এবার ট্রাম্প নিজে এমন একটি 'মহাকাব্যিক' ও কাল্পনিক রূপের ছবি শেয়ার করেছেন, যা দেখে হাসির রোল উঠেছে আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চেও। ট্রাম্পের সেই বিশেষ এআই ছবিকে হাতিয়ার করে এক হাত নিয়েছে তুরস্কে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস।

ভাইরাল পোস্টে কী আছে?

ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করা পোস্টে দেখা যাচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি এআই-জেনারেটেড ছবি পোস্ট করেছেন যেখানে তাকে কোনো এক প্রাচীন বা ফিউচারিস্টিক সাম্রাজ্যের মহিমান্বিত কমান্ডারের পোশাকে দেখা যাচ্ছে। তার মাথার ওপর যুদ্ধবিমান উড়ছে এবং নিচে উত্তাল সমুদ্রে ভাসছে মার্কিন পতাকাবাহী যুদ্ধজাহাজ। ছবির নিচে লেখা— 'YOU'RE GETTING DISCOMBOBULATED' (অর্থাৎ, আপনি বিভ্রান্ত বা হতভম্ব হয়ে যাচ্ছেন)।

ইরানি দূতাবাসের ব্যঙ্গাত্মক ক্যাপশন

এই ছবিটিকে রি-পোস্ট করে রসাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক এক ক্যাপশন ছুঁড়ে দিয়েছে তুরস্কের ইরানি দূতাবাস। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছে: 'দয়া করে কেউ ট্রাম্পের ফোনটা কেড়ে নিন। এই ভদ্রলোক আর মাত্র একটা এআই প্রম্পট দূরে আছেন নিজেকে মিল্কি ওয়ের (ছায়াপথ) সম্রাট, মহাবিশ্বের রক্ষক এবং ডাইনোসরদের সুপ্রিম কমান্ডার হিসেবে পোস্ট করার জন্য!'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নেট দুনিয়ায় হাসির রোল

ইরানি দূতাবাসের এই রসবোধ ও কূটনীতির মোড়কে করা ট্রলটি মুহূর্তের মধ্যে এক্স-এ ভাইরাল হয়ে যায়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে এই পোস্ট। নেটিজেনরা বলছেন, ট্রাম্পের যেকোনো কিছুতেই নিজেকে 'সবচেয়ে সেরা' বা 'সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী' ভাবার যে চিরচেনা স্বভাব, ইরানি দূতাবাস ঠিক সেই দুর্বল জায়গাতেই সূক্ষ্ম রসিকতার মাধ্যমে আঘাত করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কূটনীতিতে সোশ্যাল মিডিয়া যুদ্ধ

সাধারণত দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতা বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন গম্ভীর বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ পায়। কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল যুগে এসে দূতাবাসগুলোও এখন মিম সংস্কৃতি এবং এআই ট্রেন্ড ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করছে। ট্রাম্পের শেয়ার করা অতি-নাটকীয় ছবিটিকে যেভাবে ইরানি দূতাবাস বৈশ্বিক হাস্যরসে রূপান্তর করল, তা এক কথায় আধুনিক 'ডিজিটাল কূটনীতি'র এক দারুণ নজির।