কালো বিড়াল নিয়ে নানা ভয়ংকর কথা প্রচলিত আছে আমাদের সমাজে। নূর হোসেন নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী সকালে অফিসে যাওয়ার পথে একটি কালো বিড়াল দেখে ফিরে আসেন। পরে জানতে পারেন তাঁর চাকরি চলে গেছে। অন্যদিকে রমিজ উদ্দিন বৈশাখী পূর্ণিমার রাতে বাগানে কালো বিড়ালের জ্বলজ্বলে চোখ দেখে ভয় পেয়ে মারা যান। কিন্তু বিজ্ঞান কী বলে? আসলে কালো বিড়াল অশুভ নয়; বরং এরা নিরীহ ও আদুরে প্রাণী।
কালো বিড়ালের সঙ্গে কাকতালীয় ঘটনা
নূর হোসেনের চাকরি যাওয়ার ঘটনা কাকতালীয়। কোম্পানি আগেই কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করেছিল। মেয়ের পা ভাঙাও দুর্ঘটনা মাত্র। কালো বিড়ালের কোনো দোষ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মিকাইল স্মিথ বলেন, মানুষ পরিচিত জিনিসের সঙ্গে ঘটনার প্যাটার্ন মেলাতে পছন্দ করে। তাই দুর্ঘটনার পর কালো বিড়ালের কথা মনে পড়ে।
অন্ধকারে বিড়ালের চোখ জ্বলে কেন?
রমিজ উদ্দিনের মৃত্যুর জন্য দায়ী কুসংস্কার ও ভয়। বিড়ালের চোখ জ্বলার কারণ হলো ট্যাপেটাম লুসিডাম নামক প্রতিফলক পর্দা, যা আলো প্রতিফলিত করে দেখার ক্ষমতা বাড়ায়। অন্ধকারে কালো বিড়ালের দেহ দেখা না গেলেও চোখ দেখা যায়, যা ভয় তৈরি করে। তবে এটি প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য মাত্র।
ইতিহাসে কালো বিড়ালের অবস্থান
প্রাচীন মিসরে বিড়াল পূজনীয় ছিল। ১২৩৩ খ্রিষ্টাব্দে পোপ নবম গ্রেগরি কালো বিড়ালকে শয়তানের দোসর আখ্যা দেন। মধ্যযুগে ডাইনি শিকার ও কালোজাদুর সঙ্গে কালো বিড়ালকে যুক্ত করে কুসংস্কার ছড়ানো হয়।
বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা: কালো রং ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা
কালো রং আসলে মেলানিন পিগমেন্টের আধিক্য। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের গবেষক স্টিফেন ওব্রায়েন দেখিয়েছেন, কালো বিড়ালের জিন রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। এটি মানুষের এইচআইভি ও অন্যান্য ভাইরাসের চিকিৎসায় কাজে লাগতে পারে। তাই কালো বিড়াল অশুভ নয়, বরং প্রকৃতির আশীর্বাদ।



