নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেছেন, বর্তমান সরকার প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতিতে দেশীয় শিল্প গড়ে তোলার এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির যে কৌশল গ্রহণ করেছে, ফ্লোটিং ক্রেন নির্মাণ প্রকল্প তারই একটি অংশ। তিনি বলেন, সরকার ডিইডব্লিউ লিমিটেডকে একটি স্বনির্ভর শিপইয়ার্ডে রূপান্তর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে; যার বাস্তবায়ন হলে বড় আকারের যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ সম্ভব হবে।
অত্যাধুনিক ফ্লোটিং ক্রেন হস্তান্তর
বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের বন্দরের সোনাকান্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড (ডিইডব্লিউ) চত্বরে অত্যাধুনিক ফ্লোটিং ক্রেন বিএনএফসি ‘বলীয়ান’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তারা
অনুষ্ঠানে ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের (ডিইডব্লিউ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়জুল হক, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিবানী সরকারসহ নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পিএসও, নৌবাহিনী ও ডিইডব্লিউ লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফ্লোটিং ক্রেনের বৈশিষ্ট্য
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন জাহাজের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ডিইডব্লিউ ৭০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ফ্লোটিং ক্রেন বিএনএফসি ‘বলীয়ান’ নির্মাণ করে। এই ফ্লোটিং ক্রেনের দৈর্ঘ্য ৪৫ মিটার, প্রস্থ ১৫ মিটার এবং গভীরতা ৩ মিটার। ক্রেনটি ঘণ্টায় ১০ দশমিক ৫ মাইল গতিতে চলাচল করতে সক্ষম।
ক্রেনের ভূমিকা ও গুরুত্ব
সংশ্লিষ্টরা জানান, নৌবাহিনীর বিভিন্ন জাহাজের মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভারি যন্ত্রপাতি উত্তোলন ও স্থানান্তরের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বিএনএফসি বলীয়ান। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই প্ল্যাটফর্ম নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সক্ষমতারও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
প্রকল্পের সময়সীমা
দেশীয় প্রযুক্তিতে ফ্লোটিং ক্রেন বিএনএফসি বলীয়ান নির্মাণ প্রকল্প ২০২৪ সালের ৩০ জুন শুরু হয়।



