এনসিটি বিদেশিদের না দেওয়াসহ ৫ দফা দাবি চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির
এনসিটি বিদেশিদের না দেওয়াসহ ৫ দফা দাবি বন্দর রক্ষা কমিটির

চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে আবারও আন্দোলনে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি। দাবি আদায়ে আগামী ১ জুলাই সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

পাঁচ দফা দাবি

রোববার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন এবং আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি। দাবিগুলো হলো: এনসিটি ও সিসিটি বিদেশিদের কাছে ইজারা না দেওয়া, চট্টগ্রাম বন্দরের সব টার্মিনাল বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা করা, বন্দর-সংশ্লিষ্ট সব চুক্তি জনগণের সামনে প্রকাশ করা, জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি না করা এবং চট্টগ্রাম বন্দরকে জাতীয় মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার আওতায় রাখার ঘোষণা দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে এই বন্দরের মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার বিষয়টি শুধু বাণিজ্যিক নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতি, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এনসিটি বিদেশি ইজারা প্রক্রিয়া

সংশ্লিষ্টরা জানান, এনসিটি বিদেশিদের না দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। অন্তর্বর্তী সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটলেও বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার জন্য আবার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বর্তমান সরকার; যা জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অবস্থানেরই নামান্তর। তারা বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় এনসিটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত নেগোসিয়েশন কমিটিকে সহায়তা দিতে চবক ১২ সদস্যবিশিষ্ট একটি সাপোর্ট টিমও গঠন করেছে। এতে তারা শঙ্কিত।

দেশীয় সক্ষমতার প্রমাণ

তাদের দাবি, এনসিটির বার্ষিক অবকাঠামোগত সক্ষমতা ১১ লাখ টিইইউএস। এরপরও এই টার্মিনাল বছরে ১৩ লাখ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডল করছে। এতেই বোঝা যায় দেশীয় প্রতিষ্ঠান এনসিটি পরিচালনায় সক্ষম। তাই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে এই টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।

চুক্তির আগেই চার্জ বৃদ্ধি

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনের আগেই ২০২৫ সালে সরকার কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। এতে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বেড়েছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব শিল্প, ব্যবসা, কৃষি ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়ছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের আয়ের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয় এবং দেশের উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত হয়; কিন্তু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনাল ইজারা দেওয়া হলে আয়ের বড় অংশ লভ্যাংশ ও মুনাফা হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রায় দেশের বাইরে যাবে।

জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বন্দর এলাকার আশপাশে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাঁটি, বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, তেলশোধনাগার রয়েছে। এনসিটি সিসিটি বিদেশিদের দেওয়া হলে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু প্রমুখ।