বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবাসী আয় দেশের জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে ডলার সংকট এবং ব্যাংকিং জটিলতার কারণে এই খাতে নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহের বর্তমান অবস্থা
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২% বেশি। তবে এই বৃদ্ধি সত্ত্বেও ডলার সংকট কমেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠানোর হার বাড়াতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে হুন্ডির মতো অবৈধ পথ ব্যবহার বন্ধ করতে প্রণোদনা বাড়াতে হবে। বর্তমানে ২.৫% প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, যা আরও বাড়ানো উচিত।” অন্যদিকে, ডলার সংকটের কারণে ব্যাংকগুলোতে এলসি খুলতে দেরি হচ্ছে, যা আমদানি বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে।
প্রবাসী আয়ের গুরুত্ব
রেমিট্যান্স শুধু দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায় না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের গবেষক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের মতে, “প্রবাসী আয় দারিদ্র্য কমাতে এবং স্থানীয় ব্যবসায় বিনিয়োগে সহায়তা করে।” তবে এই খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য নীতি সহায়তা জরুরি।
ভবিষ্যৎ করণীয়
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডিজিটাল ব্যাংকিং ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানো গেলে বৈধপথে প্রবাহ বাড়বে। পাশাপাশি, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাড়ানো দরকার। সরকার ইতিমধ্যে ‘প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক’ চালু করেছে, তবে এর কার্যকারিতা বাড়াতে আরও মনিটরিং প্রয়োজন।



