বাজারে পেঁয়াজের দাম ২৫০ টাকা কেজি
বাংলাদেশের বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ২৫০ টাকায় পৌঁছেছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজার, শ্যামবাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে এ দাম দেখা গেছে। গত সপ্তাহেও পেঁয়াজের দাম ছিল ১৮০-২০০ টাকার মধ্যে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মৌসুমে দেশে পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়নি। অন্যদিকে, ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানিতে শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়ায় আমদানি ব্যাহত হচ্ছে।
সরবরাহ সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণ
বাংলাদেশ পেঁয়াজ আমদানি নির্ভর দেশ। দেশের চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ ভারত থেকে আসে। ভারত সম্প্রতি পেঁয়াজ রপ্তানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় বাংলাদেশে আমদানি কমে গেছে। অন্যদিকে, দেশীয় উৎপাদনও চাহিদা মেটাতে পারছে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ শতাংশ কম হয়েছে। বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে না। দেশি পেঁয়াজও পর্যাপ্ত নেই। যে কারণে দাম বাড়ছে। আগামী সপ্তাহে দাম আরও বাড়তে পারে।”
ভোক্তাদের ওপর প্রভাব
পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে পেঁয়াজের ব্যবহার কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা রওশন আরা বলেন, “পেঁয়াজ ছাড়া রান্না হয় না। কিন্তু এত দামে কিনতে পারছি না। অর্ধেকের বেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে।”
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী দুই মাস দাম কমার সম্ভাবনা নেই। কারণ ভারত থেকে আমদানি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। এছাড়া দেশি পেঁয়াজের নতুন মৌসুম শুরু হতে আরও এক মাস সময় আছে।
সরকারের পদক্ষেপ
সরকার পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যে কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মিয়ানমার ও চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পেঁয়াজ বাজারজাত করছে। তবে এসব উদ্যোগ এখনও দাম কমাতে পারেনি।
বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন বলেন, “আমরা বিকল্প উৎস থেকে পেঁয়াজ আনার চেষ্টা করছি। কিছু পেঁয়াজ ইতিমধ্যে মিয়ানমার থেকে এসেছে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহে দাম কমে আসবে।”
তবে ভোক্তারা বলছেন, সরকারের পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



