ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্থিরতা
ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে পণ্যের দামে অস্থিরতা

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্থিরতা

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মসলা, মাছ ও মাংসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে, যদিও সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র উঠে এসেছে, যা ঈদ কেনাকাটায় ভোক্তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

মসলার বাজারে তীব্র দাম বৃদ্ধি

বাজারে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে মসলার ক্ষেত্রে। কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম প্রতি কেজিতে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এলাচের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়ে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি প্রায় ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কম ছিল। অন্যান্য মসলার দামও ঊর্ধ্বমুখী:

  • দারুচিনি: ৫৮০-৬০০ টাকা কেজি
  • জয়ত্রি: ৪ হাজার টাকা কেজি
  • জায়ফল: ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি
  • লবঙ্গ: ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা কেজি
  • জিরা: ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি
  • ধনিয়া: ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি
  • তেজপাতা: ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি

শুকনো ফল ও মাংসের দামেও ঊর্ধ্বগতি

এদিকে, শুকনো ফলের বাজারেও দাম বেড়েছে। কিশমিশ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, আলুবোখারা ১ হাজার ৪০০ টাকা, কাজুবাদাম ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, কাঠবাদাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং পেস্তা বাদাম ৪ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে চাহিদা বাড়ায় মাংসের দামও বেড়েছে। বর্তমানে গরুর মাংস ৮৫০ টাকা কেজি, যা কেজিতে প্রায় ৮০ টাকা বেশি। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়, কেজিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি ২১০ থেকে ২২০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, তবে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাছের দাম বৃদ্ধি ও সবজির বাজারে স্বস্তি

মাছের বাজারেও একই চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। পোয়া মাছ ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙাস ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গলদা চিংড়ি ছোট ১ হাজার টাকা এবং বড়টা ১ হাজার ২০০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা ও পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বিক্রেতারা দ্রুত পণ্য বিক্রি করে গ্রামে যাওয়ার তাড়ায় তুলনামূলক কম দামে সবজি বিক্রি করছেন। রাজধানীর এক বিক্রেতা বোরহান বলেন, “আজ রাতেই গ্রামে যাবো। অনেক পণ্য পড়ে আছে, তাই কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছি।” বর্তমানে পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শসা ৩৫ থেকে ৫০ টাকা এবং বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, তবে কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি এবং লেবু প্রতি হালি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যান্য পণ্যের বাজার পরিস্থিতি

বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি থাকায় খোলা তেলের দাম বেড়ে ২১৫ থেকে ২২০ টাকা লিটারে উঠেছে। চিনির দামও কিছুটা বেড়েছে, বিদেশি চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা এবং দেশি চিনি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ সেমাইয়ের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে, ২০০ গ্রাম প্যাকেট সেমাই ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ৮০০ গ্রাম বোম্বাই সেমাই ২৮০ টাকা এবং খোলা লাচ্ছা সেমাই ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সুগন্ধি চালের দামও বেড়েছে, চিনিগুঁড়া চালের প্যাকেট ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা এবং খোলা চাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি।