প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) লাল টেলিফোন সংযোগের তার চুরির ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রঞ্জন চন্দ্র (২৬) ও রেজাউল ইসলাম (৩২)।
কীভাবে ধরা পড়লেন তারা
সিটিটিসি সূত্র জানায়, সম্প্রতি সংবেদনশীল এই যোগাযোগ তার চুরির ঘটনা সামাজিক ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) শাহবাগ থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলার গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় সিটিটিসির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস ডিভিশন তদন্ত শুরু করে।
ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এস এন নাসির উদ্দিন জানান, গোয়েন্দা তথ্য ও সংগ্রহ করা তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি
জিজ্ঞাসাবাদে রঞ্জন স্বীকার করে যে সে ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তামার তার চুরি করে। সে তদন্তকারীদের জানায়, ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনের একটি স্ক্র্যাপের দোকানে ৮ দশমিক ২ কেজি চুরি করা তামার তার প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করে।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিটিটিসির একটি দল অভিযান চালিয়ে স্ক্র্যাপের দোকান থেকে রেজাউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে চকবাজারের হোসেনি দালান রোডের একটি স্ক্র্যাপ গুদামে অভিযান চালিয়ে পিএমওর লাল টেলিফোন সংযোগের চুরি করা তামার তার জব্দ করা হয়।
সংগঠিত চক্রের ইঙ্গিত
প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে সচিবালয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের তার চুরির পিছনে একটি সংগঠিত চক্র জড়িত থাকতে পারে। এই নেটওয়ার্কের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে বলে সিটিটিসি কর্মকর্তারা জানান।



