ঢাকায় সিএনজি চালকের হতাশা: আয় অর্ধেক, সংসার চালানো দায়
ঢাকায় সিএনজি চালকের হতাশা: আয় অর্ধেক, সংসার দায়

রাজধানীর বনশ্রী সংলগ্ন পোড়াবাড়ী মোড়ে বসবাস করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক ওসমান আলী। প্রায় ১৫ বছর ধরে ঢাকায় সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। তবে বর্তমানে এই পেশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান।

পরিবার নিয়ে হতাশা

ওসমান আলীর সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে আসে পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকায় বসবাসের হতাশার কথা। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসমান আলী বলেন, “সংসার তো এখন আল্লাহই চালায় মামা।” তিনি বলেন, “এখন ঢাকায় যারা সিএনজি চালান, তাদের অবস্থা ভালো না। জমা বেড়েছে, কিন্তু আয় বাড়েনি। উল্টো আয় অর্ধেক হয়ে গেছে।”

আয়ের চিত্র

গাইবান্ধার সাঘাটা থেকে আসা এই চালক জানান, দুই বছর আগেও জমা দেওয়ার পর প্রতিদিন ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা, কখনও আড়াই হাজার টাকাও আয় হতো। কিন্তু এখন জমা দেওয়ার পর দিনে সর্বোচ্চ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা থাকে, অনেক দিন এর চেয়েও কম থাকে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি জানান, প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত সিএনজি চালাতে হয়। এই সময়ের জন্য ৮০০ টাকা জমা দিতে হয় তাকে। গ্যাস ও নিজের খাবার খরচ বাদ দিলে হাতে খুব সামান্যই থাকে। সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা, আবার কোনোদিন এর চেয়েও কম হয়।

পরিবারের খরচ

পারিবারিক খরচের চাপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটি রুমের ভাড়া ৫ হাজার টাকা। স্ত্রী ও ছোট দুই সন্তান নিয়ে থাকতে মাসে অন্তত ১০ হাজার টাকা লাগে, অনেক সময় এর চেয়েও বেশি। এখন তো মনে হয়, আমাদের যা আয় তাতে সংসার আল্লাহই চালাচ্ছেন।”

দায়ী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা

আয়ের এই পতনের জন্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে দায়ী করেন তিনি। ওসমান আলী বলেন, যেখানে চলার কথা না সেখানেও অটোরিকশা চলে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, “বনশ্রী জি ব্লক থেকে কোনও লোক সদরঘাট যাবে। যেখানে সিএনজির ভাড়া ২৫০-৩০০ টাকা, সেখানে অটোরিকশা ১৫০ টাকায় যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে। যে ব্যক্তি ১৫০ টাকায় যেতে পারছে, সেখানে ওই লোক ৩০০ টাকায় কেন যাবে। ফলে যাত্রীরা সিএনজিতে উঠতে চায় না।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এছাড়া নিয়ম বহির্ভূতভাবে চলাচলকারী কিছু সিএনজিও ভাড়ার বাজারে প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জীবনের যুদ্ধ

সব মিলিয়ে কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন এই চালক। তিনি বলেন, “এখন জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করেই টিকে আছি। যখন আর পারবো না, তখন হয়তো গ্রামে ফিরে যেতে হবে।”