সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামোর সুপারিশ আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর (জুলাই-জুন) থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নতুন বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে বরাদ্দ প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হচ্ছে। নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে।

বাস্তবায়নের ধাপ

নতুন সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম বছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ ও পরের ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ দেওয়া হতে পারে। আর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে যুক্ত হতে পারে ভাতাগুলো। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কমিটির গঠন ও সুপারিশ

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তত্কালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে বিএনপি সরকার গঠনের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ও সশস্ত্রবাহিনী বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রণয়নে ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। সম্প্রতি ঐ কমিটি তাদের মতামত জমা দিয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কমিটি আর্থিক চাপ বিবেচনায় রেখে নবম পে-স্কেল একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। বেতন কমিশনও একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। এসব সুপারিশের ভিত্তিতে এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে অর্থ বিভাগ। নতুন বেতন কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর করলে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়তে পারে। এ কারণে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নে সুপারিশ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিভিন্ন প্রস্তাব

কমিশনের প্রতিবেদনে বিভিন্ন প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্য বিমা প্রবর্তন ও পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার। এ ছাড়া রয়েছে সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠন, সার্ভিস কমিশন গঠন, বেতন গ্রেড ও স্কেলের যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস, সরকারি দপ্তরে ভাতা পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন।

বিশেষ ভাতা

কোনো কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে, তাকে মাসিক ২ হাজার টাকা ভাতা প্রদানের সুপারিশ করেছে। এছাড়া কমিশন ভাতার হার বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বর্তমানে প্রচলিত মাসিক টিফিন ভাতা ২০০ টাকার স্থলে ১ হাজার টাকা করা যেতে পারে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করেছে কমিশন।

পেনশন বৃদ্ধি

পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। মাসে ২০ হাজার টাকার কম পান এমন পেনশনভোগীদের পেনশন ১০০ শতাংশের মতো বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। যারা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার পেনশন পান, তাদের ৭৫ শতাংশ এবং মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনধারীদের ৫৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।