একক গ্রাহককে ঋণ সীমা বাড়িয়ে ২৫% করল বাংলাদেশ ব্যাংক
একক গ্রাহককে ঋণ সীমা ২৫% করল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবসায়িক অর্থায়নের বিদ্যমান চাপ কমাতে ব্যাংকগুলোর জন্য দুটি বড় ঋণ বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। ফলে ব্যাংকগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে একক ঋণগ্রহীতা বা শিল্পগোষ্ঠীকে ঋণ দিতে পারবে। একইসঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ব্যবহৃত এলসি ও গ্যারান্টি সুবিধা দেওয়ার সক্ষমতাও বাড়ছে।

নতুন নির্দেশনা ও ঋণসীমা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো এখন তাদের মোট মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫% পর্যন্ত একক ঋণগ্রহীতা বা শিল্পগোষ্ঠীকে ঋণ দিতে পারবে। এর আগে এই সীমা ছিল ১৫%।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগের ১৫% সীমা ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। অর্থাৎ, আগামী চার বছর ব্যাংকগুলো বড় শিল্পগোষ্ঠী ও কর্পোরেট গ্রুপগুলোকে বর্ধিত হারে ঋণ দেওয়ার সুযোগ পাবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদাহরণ ও প্রভাব

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকের মূলধন যদি ১,০০০ কোটি টাকা হয়, তাহলে আগে সেই ব্যাংক একটি গ্রুপকে সর্বোচ্চ ১৫০ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারত। এখন একই ব্যাংক ২৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে।

এছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্য অর্থায়নের ক্ষেত্রেও বড় ছাড় দিয়েছে। এলসি ও ব্যাংক গ্যারান্টির মতো 'আনফান্ডেড' ঋণের ঝুঁকি একক ঋণগ্রহীতার সীমা গণনায় কমানো হয়েছে।

নতুন গণনা পদ্ধতি

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই ধরনের সুবিধার মোট মূল্যের মাত্র ২৫% একক ঋণসীমা গণনায় ধরা হবে। আগে এই হার ছিল ৫০%। ফলে ব্যাংকগুলো এখন আগের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ এলসি খুলতে পারবে একই সীমার মধ্যে।

উদাহরণস্বরূপ, আগে যদি ১০০ কোটি টাকার এলসি খোলা হতো, তাহলে ধরা হতো ব্যাংকের একক ঋণসীমার ৫০ কোটি টাকা ব্যবহৃত হয়েছে। এখন তা গণনা করা হবে ২৫ কোটি টাকা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যাংকারদের মতামত

ব্যাংকারদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বিনিময় বাজারের অস্থিরতা, বেড়ে যাওয়া আমদানি খরচ ও অতিরিক্ত কার্যকরী মূলধনের চাপে থাকা ব্যবসায়ীদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেবে। বিশেষ করে বড় আমদানিকারক ও শিল্পগোষ্ঠীগুলো এখন সহজেই প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পাবে।

তবে, খাতের কিছু ব্যাংকার সতর্ক করে বলেছেন, একক ঋণগ্রহীতার সীমা বাড়ানোর ফলে ব্যাংকের ঋণ ঝুঁকি বড় কর্পোরেট গ্রুপের মধ্যে কেন্দ্রীভূত হতে পারে। কোনো বড় শিল্পগোষ্ঠী খেলাপি হলে পুরো ব্যাংকিং খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে বড় শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে অতিরিক্ত ঋণ কেন্দ্রীভবন কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একক ঋণগ্রহীতার সীমা কঠোর করেছিল।