ইলিশ মাছ কেন মিঠা ও লোনা উভয় পানিতে বাঁচতে পারে?
ইলিশ মাছ কেন মিঠা ও লোনা পানিতে বাঁচে?

পৃথিবীতে এমন কিছু মাছ আছে, যেগুলো মিঠাপানি ও লোনাপানি উভয় পরিবেশেই অনায়াসে বেঁচে থাকতে পারে। ইলিশ মাছও ঠিক এ ধরনেরই একটি মাছ। বিজ্ঞানের ভাষায় এসব মাছকে বলা হয় ‘ইউরিহ্যালাইন’ মাছ। তবে বেশির ভাগ মাছের শরীর এভাবে তৈরি নয়। এরা পানিতে লবণের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে কেবল যেকোনো এক ধরনের পানিতে টিকে থাকতে পারে। কিন্তু কেন?

ইউরিহ্যালাইন মাছের অভিযোজন ক্ষমতা

ন্যাশনাল বায়োলজিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচারের তথ্য অনুযায়ী, ইউরিহ্যালাইন মাছগুলো খুবই চমৎকারভাবে যেকোনো পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। তাই এরা কোনো সমস্যা ছাড়াই সমুদ্রের লোনাপানি থেকে নদীর মিঠাপানিতে চলাফেরা করতে পারে।

দুই ধরনের ইউরিহ্যালাইন মাছ

এ ধরনের মাছ মূলত দুই রকম হয়: অ্যানাড্রোমাস ও ক্যাটাড্রোমাস। এর মধ্যে অ্যানাড্রোমাস মাছগুলোর জীবনচক্র বেশ অদ্ভুত। এরা ডিম থেকে ফুটে বের হয় মিঠাপানিতে। কিন্তু বড় হওয়ার পর জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়ে দেয় সাগরে। আবার যখন ডিম পাড়ার সময় হয়, তখন এরা ঠিকই সাগর থেকে নদীর মিঠাপানিতে ফিরে আসে। আলাস্কা ডিপার্টমেন্ট অব ফিশ অ্যান্ড গেমের গবেষকদের মতে, স্যামন, স্মেল্ট, শ্যাড, স্ট্রাইপড বাস ও স্টারজন হলো এ দলের মাছ। আমাদের ইলিশ মাছও কিন্তু একই কাজ করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্যাটাড্রোমাস মাছের বৈশিষ্ট্য

অন্যদিকে, ক্যাটাড্রোমাস মাছের স্বভাব ঠিক এর উল্টো। এরা সাধারণত নদীর মিঠাপানিতে বাস করে। কিন্তু যখন ডিম পাড়ার সময় হয়, তখন এরা সাগরের লোনাপানিতে চলে যায়। ন্যাশনাল মেরিন ফিশারিজ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের ইল মাছ এ দলের অন্তর্ভুক্ত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্টেনোহ্যালাইন মাছ: লবণ সহনশীলতার সীমাবদ্ধতা

তবে পৃথিবীর বেশির ভাগ মাছই পানিতে লবণের সামান্য পরিবর্তনও সহ্য করতে পারে না। পরিবেশে লবণের মাত্রা একটু কম–বেশি হলেই এরা মারা যেতে পারে। বিজ্ঞানের ভাষায় এদের ‘স্টেনোহ্যালাইন’ মাছ বলা হয়। গোল্ডফিশ কেবল মিঠাপানিতেই বেঁচে থাকে, লবণের স্পর্শ পেলেই এরা মারা যায়। ঠিক একইভাবে টুনা মাছ কেবল সমুদ্রের লোনাপানিতেই বাঁচতে পারে, মিঠাপানিতে এরা টিকতে পারে না।

লবণ সহনশীলতার সীমা

ন্যাশনাল বায়োলজিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচারের গবেষণা অনুযায়ী, মিঠাপানির মাছের চারপাশের পানিতে লবণের পরিমাণ যদি মাত্র ০.০৫ শতাংশের বেশি হয়ে যায়, তাহলে সে পানিতে এরা আর বেঁচে থাকতে পারে না।

পরিবেশ পরিবর্তনের সময় অভিযোজন প্রক্রিয়া

এমনকি যেসব মাছ লোনা ও মিঠা উভয় পানিতেই থাকতে পারে, এক পানি থেকে অন্য পানিতে যাওয়ার সময় এদের শরীরকেও একটি মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। নতুন পরিবেশের লবণের মাত্রার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এদের কিছুটা সময় লাগে। ইউরিহ্যালাইন মাছগুলো এদের জীবনের বিভিন্ন ধাপে পরিবেশ পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের শরীরের ভেতরের ও বাইরের পানির লবণের ঘনত্বের ভারসাম্য নিখুঁতভাবে বজায় রাখে।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স